জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ‘শেল্টার’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক—উত্তরাঞ্চল আবু তৌহিদ মো. সিয়াম গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন।
পোস্টে সিয়াম দাবি করেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদুল আলম শেখকে জিতুর ‘শেল্টারে’ গত দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আসাদুল জাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিয়ামের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রাতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় আসাদুলের সম্পৃক্ততা ছিল। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর ‘লীগের স্টাইলেই’ ভিক্টরি সাইন দেখিয়ে উদযাপন করার অভিযোগও করেন তিনি।
এছাড়া, আসাদুলের ফোনের চ্যাটবক্সে জিতুর সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তাকে ক্যাম্পাসে টিকে থাকতে সহযোগিতা করার বিষয়টির ‘সত্যতা’ পাওয়া যায় বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই কথোপকথনের কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ পোস্টে প্রকাশ করেননি সিয়াম।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, গত ৫ আগস্ট আল-বেরুনী হলের শিক্ষার্থী মেহেদী, যাকে সিয়াম ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেছেন, তাকেও জিতু রক্ষা করেছেন। আসাদুল ও মেহেদী দুজনই জিতুর নিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিয়ামের ভাষ্য, জিতু ক্যাম্পাসে যে ‘কোরাম’ তৈরি করেছেন, তাদের অধিকাংশই অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাদের কেউ কেউ এখনো সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
ফেসবুক পোস্টে জিতুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিয়াম। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের এসব কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জিতু বিএনপিতে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে শরীয়তপুরের এক বিএনপি নেতার সঙ্গে জিতুর যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে তাকে সতর্ক করার আহ্বানও জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জিতুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—সে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নেতা।
তবে সিয়ামের এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।