জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক সহপাঠীকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মিম বিনতে শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাফিজুর রহমান তালুকদার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, ওইদিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট এলাকায় একটি বিষয় মীমাংসার জন্য গেলে মিম বিনতে শাহরিয়ার তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগপত্রে নাফিজুর দাবি করেন, সেখানে মিম তার পরিবার ও পার্টনারকে জড়িয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং তার বিরুদ্ধে চরিত্রহননের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি নিজের মোবাইল ফোন মিমের হাতে দেন। তবে মিম ফোনে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন নাফিজুর।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মিম সেটি সিমেন্টের বেঞ্চে আছড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন নাফিজুর। এতে ফোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মিম তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেন। পরে ট্রান্সপোর্ট এলাকার মূল সড়কের দিকে যাওয়ার সময় মিম তাকে ডেকে নেন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে সবার সামনে তাকে সজোরে চড় মেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন নাফিজুর।
নাফিজুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাটি ওই সময় সেখানে উপস্থিত সহপাঠী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ করেছেন। পাশাপাশি ট্রান্সপোর্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিম বিনতে শাহরিয়ারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাফিজুরকে চড় মারার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি নাফিজকে একটা থাপ্পড় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে। আপনারা খোঁজ নিলে বিষয়টি জানতে পারবেন।”
মিম আরও বলেন, নাফিজুর তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে তিনি প্রক্টরের কাছে পাল্টা অভিযোগপত্র দেবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগপত্রটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ট্রান্সপোর্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।