বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী। বেরোবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান গবেষণার পাশাপাশি সফলভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গনের দায়িত্ব পালন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
তালিকায় বাংলাদেশের ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধি ২১ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ অর্জন প্রসঙ্গে ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের এবং একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্বের বিষয়। এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর পেছনে রয়েছে আমার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা। তাঁদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গবেষণা করে যাচ্ছি। আমার গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রাখা।
দেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখার কথা জানিয়ে তিনি তিনি বলেন, বিশ্বের গ্লোবাল র্যাঙ্ক ২৮২৫০ এবং এপ্লাইড ফিজিক্স সাবফিল্ড-এ র্যাঙ্ক ৫১৫ অর্জন নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোনো স্বীকৃতিই গবেষণার শেষ নয়; বরং এটি আরও ভালো গবেষণা করার অনুপ্রেরণা। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে চাই। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের সঙ্গে কাজ করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং দেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমার এই অর্জনের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আমার গবেষণার পথচলায় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গবেষণার জন্য আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাব—ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও প্রথম স্থানে রয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মির্জা হাসানউজ্জামান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুনতাসির মুর্শেদ। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মোঃ তরিকুল ইসলাম। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক এম. খালিদ হোসেন।