রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের সব ধরণের কর্মসূচি বয়কট ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিন সাংবাদিক সংগঠন। হামলায় জড়িতদের বিচার না হওয়া ও স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও শাখা সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। তার নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সব ধরণের সংবাদ কভার বর্জনের সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৪ ও ১৫ অক্টোবর) পৃথক তিন বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন চারজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করলেও তাঁদের মধ্যে দু’জনের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই বলে আমরা লক্ষ্য করেছি।
ফলে নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ ছাড়া অন্য কারও বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী সিন্ডিকেট সভায় অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে বলে তারা আশাবাদী।
ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্যকে অভিযুক্তদের রক্ষার স্পষ্ট চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে রাবিসাস। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়ে, হামলার স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়িয়ে গেছেন। তাঁর বক্তব্যে অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতি বলা হয়, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও রাবি ছাত্রদলের সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ কিংবা ভুল স্বীকার করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হামলায় জড়িতদের বিচার এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত শাখা ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ না করার কথাও জানানো হয়।
ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্যে হামলার গুরুত্ব ‘খাটো’ করে দেখানো হয়েছে বলে মনে করেছে রাবি প্রেসক্লাব। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য অভিযুক্তদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরও এ ঘটনায় তাঁর বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্বারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বারংবার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিপোর্টার্স ইউনিটিও একইভাবে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিচার এবং সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি শাখা ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি চার শিক্ষার্থীর সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।