ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের
দীর্ঘ চার দশকের বৈরিতা পেছনে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির’ লক্ষ্যে একে অপরের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে।
আলোচনায় ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও ইরানকে পুরোপুরি ছাড় দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ভাইস প্রেসিডেন্ট এখনো ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে তিনি যোগ করেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি দুই দেশকে এমন এক ভবিষ্যতের সামনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের আমূল পরিবর্তনের জন্য ‘নতুন এক অধ্যায়’ শুরুর ডাক দিয়েছেন। জটিল সব সমস্যার টেকসই কূটনৈতিক সমাধান বের করতে ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন।”
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এই সমঝোতার প্রভাব কতটা হবে, সে বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল সাময়িক কোনো চুক্তি নয়। আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সম্পর্কের চিত্র চিরতরে বদলে দিতে।”
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা আর সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই নাটকীয় কূটনৈতিক অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই শত্রুতা পেছনে ফেলে দুই দেশ সত্যিই কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না।