শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লির রাস্তায় ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের অবস্থান
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের এক নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে তরুণরা রাস্তায় নেমেছেন টানা অবস্থান কর্মসূচিতে। তীব্র গরম এবং পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই তারা রাজপথ ছাড়ছেন না।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া তরুণ অভিজিৎ দিপক। ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং ফলাফল নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ তরুণদের এই আন্দোলন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে রাজপথে বিস্তৃত হয়েছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। প্রধান বিচারপতি তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করলে অভিজিৎ দিপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?” এই পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এবং গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এই সংগঠনের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ক্ষমতাসীন বিজেপির চেয়েও দ্বিগুণ।
গত ৬ জুন দিল্লিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নাগপুরের মতো বড় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেও প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ফলে ভেঙে পড়া ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সচিন কুমার বলেন, “আমাদের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছে, অথচ বিষয়টি নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।”
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকার টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িক নিষিদ্ধ করলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে কেবল ‘সাময়িক সমাধান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভারতের পুরো শিক্ষাব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দিপক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, “সরকার যদি মনে করে আমাদের ক্লান্ত করে ঘরে ফিরিয়ে নেবে, তবে তারা ভুল করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।”
