চুরির অভিযোগে সিনিয়র কর্তৃক হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে সিনিয়র কর্তৃক অপর আরেক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে নয়টায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন কৃষি প্রকৌশল বিভাগের ২৫ ব্যাচের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দারুস সালাম।
ঘটনার ভুক্তভোগী দারুস সালাম জানান, ১৪ জুন তার ইমিডিয়েট সিনিয়র আরিফ হাসনাত রাত্রি যাপনের জন্য তাদের মেসে অবস্থান করে। সেদিন রাতে আরিফের ২ টি ফোনসহ ঘড়ি এবং মানিব্যাগ চুরি হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী দারুস সালামের একটি ফোন চুরি হয়।
চুরির পর তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়রি করার পরও আরিফ হাসনাত দারুস সালামসহ মেসের অন্যান্যদের সন্দেহ করতে থাকে। দুই-তিনদিন পর আরিফের অন্যান্য বন্ধুরা মিলে তাদের মামলার হুমকি দিতে থাকে।
এরপর ২২ জুন রাত ৯ টার দিকে ফোন পাওয়া গেছে এবং থানা থেকে সংগ্রহ করতে হবে বলে সালামকে বাইকে উঠিয়ে নিয়ে যায় আরিফ। কিন্তু থানায় না গিয়ে ৮ নং নিউটাউনন নামক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আরিফের বন্ধু এবং নুর হোসেন হলের ছাত্রদল কর্মী মেজবাহ তাকে মামলার ভয় দেখায় এবং তিন ঘন্টাব্যাপী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে তার কাছে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তবে একপর্যায়ে অন্য বন্ধুদের থেকে টাকা নিতে সাহায্য করা এবং এই ঘটনা ক্যাম্পাসের কাউকে না জানানোর শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর শরীর খারাপ হলে ভোরবেলা তার বন্ধুরা তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি অবহিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কার্যক্রম অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃত দোষীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে।
অভিযুক্ত ইসিই ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং ডিভিএম ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেজবাহ ফোন ধরেননি।
