জাবিতে রিকশার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা চাঁদার অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ক্যাম্পাসে অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনের নাম এসেছে।
এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন ও গোপনে টাকা লেনদেনের তথ্য সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
জানা যায়, ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি দ্বিতীয় ধাপে আবেদন আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ১৬ জুলাই ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সামনে আসে। অডিওতে মো. মনির হোসেনকে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে নির্ধারিত ৬ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
অডিওতে চালক মনিরকে জানান, তিনি আবেদনকারীদের বুঝিয়েছিলেন যে ৬ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট এবং ১০ হাজার টাকা আলাদা বিষয়। তবে কয়েকজন আবেদনকারী দাবি করেন, তাঁদের শুরুতে বিষয়টি এভাবে জানানো হয়নি।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনে মনিরকে বলতে শোনা যায়, কেউ জানতে চাইলে চালকদের বলতে হবে, “জিতু ভাই আমাদের নম্বর করে দিছে বুঝছো।” একই সঙ্গে তিনি চালককে আশ্বস্ত করে বলেন, “কোনো সমস্যা হলে বলবে সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাই আমাকে রেফার করছে।”
অডিওতে টাকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় মনিরকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করতে চাপ দিতেও শোনা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, অডিও ফাঁসের কয়েক দিনের মাথায় গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগরের রনি চত্বর এলাকার একটি মুদি দোকানের পেছনে গোপনে ওই অর্থ লেনদেন করা হয়।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মনির কয়েকজন চালককে ফোন করে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন- বিষয়টি প্রকাশ হলে অনুমোদনের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে। এমনকি কেউ জানতে চাইলে চালকদের বলতে বলা হয়, “আমি উনার কাছে টাকা পেতাম বা ধার নিয়েছিলাম, সেই টাকা দিয়েছি।”
আবেদন ফর্মগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কয়েকটিতে সুপারিশকারীর স্থানে হাতে লেখা ‘জিতু/জাকসু’ উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মনির হোসেন টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো রিকশাওয়ালার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিইনি। আমি ছোটখাটো চাকরি করি, এ ধরনের কোনো ভেজালের মধ্যে আমি নাই।”
শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মারুফ হোসেন বলেন, “মনির ভাই আমার কথা কেন বলেছেন, তা আমি জানি না। তিনি একদিন একটি পরিচিত ছেলের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে বলেছিলেন। আমি এস্টেট অফিসে যোগাযোগ করেছিলাম। পরে জানতে পারি, আর সুযোগ নেই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।”
জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ফর্মে সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “অনেকের অনুরোধে আমি সুপারিশ করেছি। আরও অনেকে সুপারিশ করেছেন। তবে টাকা-পয়সার কোনো লেনদেনের বিষয় আমার জানা নেই। কেউ যদি লাইসেন্সের জন্য টাকা নেয়, তাহলে তার লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আবুল কাশেম বলেন, “সুপারিশ তো অনেকেই করেছেন। তবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি অবগত নই।”
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।”