জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারের ঔষধের হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের গরমিলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন গেরুয়া বাজারের একটি ফার্মেসি থেকে জাবি মেডিকেল সেন্টারের ব্যাচ সংবলিত বিপুল পরিমাণ ঔষধ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের সময় ফার্মেসির মালিক দাবি করেন, মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মচারীর কাছ থেকেই তিনি এসব ওষুধ কিনেছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) তদন্ত কমিটি আকস্মিকভাবে গেরুয়া বাজারের স্বাস্থ্য সেবা ফার্মেসিতে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ফার্মেসি থেকে জাবি মেডিকেল সেন্টারের ব্যাচ নম্বরযুক্ত বিপুল পরিমাণ ঔষধ উদ্ধার করা হয়।
স্বাস্থ্য সেবা ফার্মেসির মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম ঢাকা মনিটর ২৪- কে জানান, মেডিকেল সেন্টারের পিয়ন ওসমান গণি (মিলন) বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে তার কাছে এসব ঔষধ বিক্রি করেছেন।
আরও পড়ুন- জাবিতে রিকশার লাইসেন্সে ১০ হাজার টাকা চাঁদার অভিযোগ
ফার্মেসি মালিকের ভাষ্য, “আমি জানতাম না এগুলো জাবি মেডিকেল সেন্টারের ঔষধ। কিছুটা কম দামে পাওয়ায় কিনে নিয়েছিলাম। মিলন আমাকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ঔষধ বিক্রি করেছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাবি মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে অভিযুক্ত ওসমান গণিকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, মেডিকেল সেন্টার থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ঔষধ বাইরে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে উদ্ধার হওয়া ঔষধের প্রকৃত পরিমাণ, কীভাবে সেগুলো ফার্মেসিতে পৌঁছেছে এবং এ ঘটনায় আর কারা জড়িত— এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ঔষধের তালিকা প্রস্তুত, হিসাব-নিকাশ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাবি মেডিকেল সেন্টারে ঔষধের মজুদ ও বিতরণে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। অডিটে বিপুল পরিমাণ ঔষধের হিসাব না মেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় গেরুয়া বাজারের ফার্মেসিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।গ