জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে এবং ‘রান এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘জুলাই আপরাইজিং রান-২০২৬’ শীর্ষক একটি মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ আয়োজন করে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রায় দেড় হাজার রানার অংশ নেন।
নির্ধারিত রুট অনুযায়ী ম্যারাথনটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, মীর মশাররফ হোসেন (এমএমএইচ) হল, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ইভেন্ট টি-শার্ট, রানিং কিট, জাতীয় পতাকা এবং ম্যারাথন শেষে সকালের নাশতা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। দেশের কাঠামোগত পরিবর্তন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্নীতি রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা ছিল, জুলাইয়ের পর তা বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু কার্যকর সংস্কার হয়নি।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “যে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা যেন তার মূল্যায়ন করে। অন্যথায় যে তরুণ সমাজ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, তারাই আবার প্রতিবাদে দাঁড়াবে। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই ও আগস্টকে স্মরণীয় করে রাখা এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেই বার্তা দিতেই আমাদের এই আয়োজন। শহীদ পরিবার ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে আমরা আগামীর বাংলাদেশ পুনর্র্নিমাণে কাজ করতে চাই।”