শিক্ষকদের সামনেই জুলাই নেতাদের গালিগালাজ, অভিযুক্ত জাকসু ভিপি

নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আবাসন নিয়ে দাবি তুলে ধরলেন জাকসু ভিপি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জাবির তিন নেতাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালির অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) ফ্যাসিস্ট পতন দিবস উপলক্ষে প্রীতিভোজের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রদের আল বেরুনী হলে প্রীতিভোজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, ফিস্ট চলাকালে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে জিতু সাম্প্রতিক এক শিক্ষার্থীকে (মেহেদী) কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

কথোপকথনের মাঝে তিনি শিক্ষকদের সামনেই উচ্চস্বরে জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক আহসান লাবীব, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মো. সিয়াম ও শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য হামিদুল্লাহ সালমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এই তিন নেতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে সখ্যতা ও যোগাযোগ রয়েছে এমন অভিযোগে তূলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুষদের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী আবিরকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আবু তৌহিদ সিয়াম, হামিদুল্লাহ সালমান ও আহসান লাবীব।

পরবর্তীতে মেহেদী আবির ছাত্রলীগের ফেসবুক পোস্টে রিয়াক্ট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন এবং মেহেদী মুচলেকা দিবেন বলে জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গালাগালির সময় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শরিফ হাসান উপস্থিত ছিলেন না। তার মা অসুস্থ থাকায় তিনি আগেই চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা থাকা মেহেদী আবিরকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী আখ্যা দিয়ে জিতু বলেন, “ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হেনস্তা করে লাবিব, সিয়াম ও সালমান সাংবাদিকদের দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। এরপরই তিনি গালাগালিতে জড়ান। জিতু ওই সময় নেতাদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, ‘সবগুলা শুয়ারের বাচ্চা’।”

গালাগালির এক পর্যায়ে জাবির সাবেক সমন্বয়ক মেহেরাব সিফাত জিতুর কাছে প্রশ্ন তোলেন যে, সে কাকে গালি দিয়েছে। ঘটনাস্থলেই বাগবিতণ্ডা হয় তাদের মাঝে। পরবর্তীতে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে জিতু দাবি করেন, তিনি যে সাংবাদিকরা মেহেদী আবিরকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষকরাও মেহেরাব সিফাতকে বলেন, তার গালি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ছিল।

সিফাত বলেন, “আল বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষক মেহেদী হাসান দিপু ‘সে (জিতু) সাংবাদিকদেরই শুয়ারের বাচ্চা বুঝিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন।”

সার্বিক বিষয়ে জানতে হলের আবাসিক শিক্ষক মেহেদী হাসান দীপু ও জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।