হলে না থাকলে বাইরে থেকে এসে ভিপিগিরি করবে? : জাবি উপ-উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অছাত্র জাকসু এবং হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে অবস্থান নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে থাকার সুযোগ না দিলে তাদের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’ গঠনতন্ত্রের অস্পষ্টতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও জাকসুর গঠনতন্ত্রের মধ্যে কিছু সাংঘর্ষিক বিধান রয়েছে।”

একদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অল্প সময়ের জন্যও বৈধ ছাত্রত্ব থাকলে একজন শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার বিধানও রয়েছে। অথচ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর।

এ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, “যদি এক মাসের বৈধতা থাকা কোনো শিক্ষার্থীকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে কিছুদিন পরই তাকে হল ছাড়তে বাধ্য করলে সে দায়িত্ব পালন করবে কীভাবে? হলে না থাকলে বাইরে থেকে এসে ভিপিগিরি করবে? সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাহলে তাকে ভোট দিল কেন?”

তিনি বলেন, “নিয়মের মধ্যে যখন এমন বৈপরীত্য থাকে, তখন প্রশাসনকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষার্থীবান্ধব ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

চলমান বিতর্কে একপাক্ষিক অবস্থান না নিয়ে বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখার আহ্বান জানান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের জন্য সীমিত সময় সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে থাকার সুযোগ না থাকলে তাদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়া ও দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।”