জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শনে বিভাজনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের ভাবনা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
তিনি বলেন, ‘আইডেন্টিটি তৈরির ক্ষেত্রে নজরুল এবং জিয়াউর রহমান আমাদের যে ভাবনাটা তৈরি করে দিয়েছেন, তা বিভাজনের নয়, বরং তা ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক।’
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনে ‘নজরুল বর্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং হাউস যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
নজরুল ও জিয়াউর রহমানের দর্শনের সাদৃশ্য তুলে ধরে জাবি উপাচার্য বলেন, ‘নজরুল যেমন বলেছেন—ওরা একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু মুসলমান; ঠিক তেমনি জিয়াউর রহমান বলেছেন—আপনি হাজং হোন, চাকমা হোন, যা ইচ্ছা তা হোন, আপনি বাংলাদেশি। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনই তাদের সবচেয়ে বড় মিল।’
অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, নজরুল ও জিয়াউর রহমানের পরিচয় নির্মাণের ভাবনায় ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী বা ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়ের মধ্যে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘চলুন আমরা এমনভাবে চলি যাতে আপনার পাশের মানুষটি আপনার উপস্থিতিতে প্রশান্তি পায়।’
এ সময় কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি জিয়াউর রহমানের শ্রদ্ধার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। নজরুলের সমাধিস্থলের প্রসঙ্গে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘ফ্লাইট টেকনিক্যালি লেট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কাজী নজরুল ইসলামকে সমাহিত করার যে ব্যবস্থা জিয়াউর রহমান করেছিলেন, তা তার ভাবগুরুর প্রতি ভালোবাসারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে তিনি নজরুলকে স্থায়ীভাবে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশে পরিণত করেছেন।’
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যও তুলে ধরেন জাবি উপাচার্য।
তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট তারেক রহমান একটি কথা বলেছিলেন—বিজয় তখনই মহিমান্বিত হয় যখন পরাজিতরা বিজয়ীদের কাছে নিরাপদ।’
এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘বিগত আমলের অনেক মন্ত্রী বলেছিলেন যে, ক্ষমতার পালাবদল হলে ৫ লাখ মানুষ মারা যাবে। হয়তোবা এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পলিসি অনুসরণ করে, বাবার স্মৃতি, মায়ের স্মৃতি এবং নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সকলের জন্য বসবাসযোগ্য একটি বাংলাদেশ তৈরি করার ইচ্ছা থেকেই তিনি (তারেক রহমান) বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন।’
আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, চিন্তা ও দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।