সাঁথিয়ায় মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিএনপি নেতার

সাঁথিয়ায় মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিএনপি নেতার
ধূলাউড়ি কাওছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন। ফাইল ছবি

পাবনার সাঁথিয়ায় ধূলাউড়ি কাওছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ বিএনপি নেতার।

এলাকাবাসীর পক্ষে ধুলাউড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব বাবুল বিডিআর জেলা প্রশাসক পাবনা ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। মাদ্রাসার তহবিলের টাকা ও মাদ্রাসার নিজস্ব প্রায় দুইশ বিঘা জমির খাজনার টাকা ও দোকান ভাড়ার সঠিক হিসাব না দেয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী ৬ মাসের ধুলাউড়ি হাটের ডাককৃত সমস্ত টাকা অধ্যক্ষ আত্মসাৎ করেছেন। মাদ্রাসার নামে হাট দেখিয়ে ৯০% টাকা সে অন্যদের সাথে মিলে ভাগবন্টন করে নেন।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করেন, পূর্বে প্রতি ছাগল দুইশ টাকা নিলেও এখন তা তিনশো টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পেঁয়াজ হাটে নিলে কৃষকের কাছে থেকে প্রতি ৪০ কেজিতে অতিরিক্ত ২ কেজি খাজনা নেওয়া হচ্ছে।

ধূলাউড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব বাবুল বিডিআর আরো বলেন, অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন হাটের টাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তার দুর্নীতির পরিমাণ এতই বেড়ে গিয়েছিল যে ৫ আগষ্টের পরে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা তাকে মেরে বের করে দিয়েছিলো মাদ্রাসা থেকে। পরে সমঝোতা করে তিনি এখানে বসেছে। এ নিয়েও গুঞ্জণ রয়েছে। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের অনিয়মের কথা আমরা ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

হাসান মাহমুদ নামে স্হানীয় এক ব্যক্তি জানান, ধূলাউড়ি হাট নিয়ে দূর্নীতি চলছে। অধ্যক্ষ খুব একটা ভালো না। সে বিগত দিনেও দূর্নীতি করেছে, এখনো করছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদরাসায় গেলেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। মাদরাসার মেইন গেট বন্ধ থাকে। অফিস থেকে চাবি নিয়ে খুলতে হয়। আর সাংবাদিকেরা গেলে তিনি দেখা করেন না। পরিচিত নম্বরে ফোন ধরেন না। অপরিচিত নম্বরে কল দিলে একবারই ধরেন। সেখানেও সাংবাদিক পরিচয় পেলে মিটিং, ওয়ার্কশপ, ব্যস্ত আছি বলে কেটে দেয়। এর পর শতবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন না।

এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে, তিনি তাৎক্ষনিক মাদরাসা সভাপতি ও এডিসি রাজস্ব ইয়াসমিন মনিরাকে একটি তদন্ত কমিটিন গঠনের নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইয়াসমিন মনিরা জানান, আমি অসুস্থ ছিলাম অধ্যক্ষ আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।