জাবির প্রায় ২০০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, হলে দেওয়া হলো মেডিকেল সরঞ্জাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর উদ্যোগে ‘জাকসু হেলথগিয়ার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সিক অ্যাটেনডেন্ট (সিকবয়), হল সংসদ ও জাকসুর প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০০ জন অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, সিপিআর ও এইডি ব্যবহার, ক্ষত পরিচর্যা ও রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ফ্র্যাকচার ও দগ্ধ ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ফার্স্ট এইড কিট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করা হয়।

জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক হুসনী মুবারক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অসুস্থ শিক্ষার্থী ও জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি জানান।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ব্যবহারের জন্য প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (স্ফিগমোম্যানোমিটার), স্টেথোস্কোপ, নেবুলাইজার, ওজন মাপার যন্ত্র ও থার্মোমিটারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, জরুরি পরিস্থিতির প্রথম কয়েক মিনিটে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, প্রশিক্ষণে সে বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব জ্ঞান যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে একজন মানুষের জীবনও রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, মেডিকেল সেন্টারের মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমেও জাকসু অবদান রাখছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিক অ্যাটেনডেন্টরা শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে তাদের অনেকেরই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাকসুর পক্ষ থেকে বিভিন্ন হলে যে মেডিকেল সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হল সংসদের স্বাস্থ্য সম্পাদকদের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। কর্মসূচি থেকে একজন শিক্ষার্থীও উপকৃত হলে সেটিই এ আয়োজনের সফলতা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, খেলাধুলার মাঠে কিংবা আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী বিপদে পড়লে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে কীভাবে প্রাথমিকভাবে সহায়তা করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপদে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে, সে বিষয়ে ধারণা থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় জাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আবাসিক হলগুলোর স্বাস্থ্য সম্পাদকদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম বিতরণের মাধ্যমে আবাসিক হলগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।