গানে-গানে জলবায়ুর বার্তা রাবি সংগঠন ইউরিচের

গানে-গানে জলবায়ুর বার্তা রাবি সংগঠন ইউরিচের

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপদাহ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে যুব-সংগঠন ইউরিচ (ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ)।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় আঞ্চলিক ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গানের মাধ্যমে এই সচেতনতামূলক আয়োজন করা হয়।

‘গ্রিন ভয়েসেস’ প্রজেক্টের সহযোগিতায় আয়োজিত এক ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বিকেল গড়াতেই কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পরিণত হয় জনসমাগমস্থলে। প্রচলিত সেমিনার বা আলোচনা সভার বাইরে গিয়ে লোকজ ঘরানার এই পরিবেশনা শুরু থেকেই দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গম্ভীরা গানে নানা-নাতির কৌতুকপূর্ণ কথোপকথনের ছলে তুলে ধরা হয় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সংকটের কথা। রসিকতাপূর্ণ খুনসুটির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশনায় একপর্যায়ে উঠে আসে ইউরিচ সংগঠনটির পরিচিতি ও এর গবেষণাধর্মী কার্যক্রমের কথাও।

এরপর গানে গানে সতর্ক করা হয়, তীব্র তাপপ্রবাহ (হিট ওয়েভ) অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। এ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পানি পান, রোদে ছাতা ব্যবহার এবং যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত পথে চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয় পরিবেশনায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম থেকে রক্ষা পেতে সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানো হয় গানের কথায়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন বাঁচাতে সবাইকে একযোগে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়ে সালাম জানিয়ে বিদায় নেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠান শেষে গান শুনতে আসা শ্রোতা ফারুক মিয়া বলেন, “গম্ভীরা গান সেই ছোটবেলা শুনছিলাম, দীর্ঘদিন পর আবার শুনলাম। গানে-গানে এই এলাকার তাপ নিয়ে সুন্দর উপস্থাপনা করেছে নানা-নাতি।”

ইউরিচের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, “গম্ভীরা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল, গম্ভীরা মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের আঞ্চলিক গান, যা এই সমাজের মানুষ খুব সহজেই উপলব্ধি ও গ্রহণ করতে পারে। এই গানের মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তাপদাহ, পানি সংকট, খরার মতো সমস্যাগুলো তারা কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইউরিচ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাধর্মী তরুণ শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। মূলত গবেষণা-নির্ভর ফলাফলের ভিত্তিতে কমিউনিটিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সংগঠনটি। প্রচলিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটি।