পাবিপ্রবিতে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের একদল প্রতিনিধি।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা, বন-জঙ্গল ও আগাছা জমে থাকা এবং ড্রেন অপরিষ্কার থাকায় পরিবেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে মশার উপদ্রব, দুর্গন্ধসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা বাড়ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১.ক্যাম্পাসের সম্মুখভাগ ও প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা।

২.প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকরভাবে প্রস্রাবের প্রবণতা বন্ধে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উপযুক্ত স্থানে পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য প্রস্রাবাগারের ব্যবস্থা করা।

৩.ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন এলাকা, আবাসিক হল, লেক, একাডেমিক ভবনের পাশের এলাকা ও প্রাচীরসংলগ্ন ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা।

৪.মশার উপদ্রব ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৫.ক্যাম্পাসের স্পিডব্রেকারগুলো দ্রুত সংস্কার করে প্রতিটিতে দৃশ্যমান সাদা রঙের মার্কিং এবং পর্যাপ্ত রোড স্টাড বা ‘ক্যাটস আই’ স্থাপন করা।

৬.ক্যাম্পাসের সম্মুখভাগে থাকা অপর দুটি ফটক দ্রুত উন্মুক্ত করা। প্রয়োজনীয় আনসার সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফটক দুটি ব্যবহারযোগ্য করা হলে শিক্ষার্থীরা কম দূরত্ব ও কম সময়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়; বরং একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, নান্দনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।