জাবির আইআর বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনাস্থা

জাবির আইআর বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনাস্থা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সজীব বালার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, পেশাদারিত্বহীনতা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। একই সঙ্গে তাঁর পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া পৃথক দুটি লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, বিভাগের ১১ জন শিক্ষক ড. সজীব বালার প্রশাসনিক অদক্ষতা, একাডেমিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের কারণে তাঁর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিভাগের ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য একটি চিঠিতে জানান, সভাপতির ধারাবাহিক হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তারা কাজ করতে অস্বস্তিবোধ করছেন এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক কাগজপত্র ও উচ্চশিক্ষার দাপ্তরিক ছাড়পত্র প্রদানে তিনি অনর্থক বিলম্ব করেন। অনেক সময় দায়িত্ব এড়াতে দুপুরে বিভাগে আসেন। এ ছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগে সহযোগিতা না করে উল্টো প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “একাডেমিক কাগজপত্র পেতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা বিভাগীয় সভাপতির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানের কোনো উদ্যোগ নিলে তা প্রশাসনিক অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়।”

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. সজীব বালা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি। প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি বা কাউকে হয়রানি করার রেকর্ড আমার নেই। আমি নিয়মিত ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।”

তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান পদটি সাময়িক। আমার আত্মসম্মান বজায় থাকা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করব। সম্মানহানি হলে নিজেই সরে দাঁড়াব। তবে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে যাচাইয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

বিভাগের এই অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।