চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদাকে সামনে রেখে দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি দিবস এবং কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্স উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কেউ চিরদিন থাকব না, কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষ থাকবে। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই চিকিৎসা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও সার্বিক আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়টিও বাস্তবসম্মতভাবে ভাবতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে আধুনিক চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ায় সাধারণ মানুষের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেন ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগ দিন দিন বাড়ছে। এটি প্রতিরোধ করা না গেলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নাগালে চিকিৎসাব্যবস্থা রাখতে সরকার ইতিমধ্যে ভাল্ব ও রিংয়ের ওপর থেকে ট্যাক্স মওকুফ করেছে। এছাড়া জনগণের কল্যাণে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন এবং হাসপাতাল চত্বরে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের এই দিনে (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। ঐতিহাসিক সেই দিনটিকে স্মরণ করতেই এই বিশেষ দিবসের আয়োজন করা হয়।