জাবি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা: নিজ উদ্যোগে লেক পরিষ্কার করলেন রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা

ফান্ডের অভাব ও নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা হয়নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংলগ্ন সুইজারল্যান্ড-শান্তিনিকেতনের লেক। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের উদ্যোগের আশায় বসে না থেকে নিজেদের স্ব-উদ্যোগে লেকটি পরিষ্কার করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাবির বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড-শান্তিনিকেতন সংলগ্ন লেকে এ চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশে অবস্থিত এই লেকটি কচুরিপানা ও বিভিন্ন বর্জ্যে আবৃত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে ছিল। লেকের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং মশার উপদ্রব কমাতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লেকটি পরিষ্কারের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে ফান্ড সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

অবশেষে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিজেরাই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন।হলের সাবেক জিএস ইমন ভূইয়া বাবুর নেতৃত্বে আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেকে নেমে কচুরিপানা ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাবেক জিএস ইমন ভূইয়া বাবু জানান, “লেকটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন থাকায় আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল এবং মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।লেকটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছিলো। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও ফান্ডের দোহাই দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি। তাই আমরা হলের সবাই মিলে নিজ উদ্যোগেই লেকটি পরিষ্কার করার জন্য লেকে নেমে পড়ি।”

পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়া আরেক শিক্ষার্থী আবির জানান, “শান্তিনিকেতন লেক পুরো ক্যাম্পাসের একটা ইমোশনের জায়গা। লেকের এই বেহাল দশা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ কে প্রভাবিত করে।হল সংসদের জিএস বাবু ভাই এমন একটা পদক্ষেপ নেওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাসের উচ্ছ্বাস দেখে আবারও সেই ইমোশনের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পারছি আজ। লেক পরিষ্কারের পদক্ষেপ আরো একটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত সবার প্রতি শুভ কামনা রইলো।”

শিক্ষার্থীদের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সাথে শিক্ষার্থীদের এই কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এক ধরনের নীরব প্রতিবাদও প্রকাশ পেল বলে মনে করছেন অনেকে।

হেডলাইন লাইন-ব্রেক (শব্দের মাঝে ↵ চাপুন)
প্রিফিক্স ও প্রতি লাইনের ফন্ট সাইজ ও কালার
লাইন স্পেসিং
--
হেডলাইনের পজিশন