জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেত্রী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদলের নেত্রীদের অর্জন নিয়ে ‘ঘুমিয়ে’ শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করেছেন। একই পোস্টে সহযোদ্ধা আঞ্জুমান ইকরার প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্ররাজনীতি ও জাকসু নির্বাচন ঘিরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া পোস্টে অনন্যা ফারিহা লেখেন, প্রথম বর্ষ থেকেই আঞ্জুমান ইকরার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ব্যক্তিগত খারাপ সময়ে একে অপরের পাশে থাকা, মানসিকভাবে সহযোগিতা করা এবং একসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে অনন্যা জানান, নির্বাচনের আগে তিনি অরাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরিবেশ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। পরে একটি দলীয় প্যানেল থেকে যোগাযোগের পর তিনি জিএস ও এজিএস পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে অনন্যা লেখেন, জাকসু নির্বাচন ঘিরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, কীভাবে কিছু শিক্ষক নিজেদের স্বার্থে ছাত্ররাজনীতিকে প্রভাবিত করছেন। এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার টিকিট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে ওই শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেননি অনন্যা।
ছাত্ররাজনীতিতে মেধা ও নেতৃত্বের মূল্যায়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অনন্যার ভাষ্য, মেধাবী কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে অনেক তথাকথিত নেতা অনিরাপত্তায় ভোগেন এবং নিজেদের স্বার্থে শিক্ষকদের কথায় চলেন।
নারী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “যেটা আমি বা ইকরারা পরিশ্রম করে অর্জন করতে চেষ্টা করি, সেটা কেউ কেউ ‘ঘুমিয়ে’ই অর্জন করে ফেলছে!”
জাকসু নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনন্যা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সম্মানে কোনো বিনিময় ছাড়াই তিনি প্রার্থিতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা প্রমাণ করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
পোস্টে রুনু স্যারের প্রসঙ্গ টেনে অনন্যা বলেন, বহিষ্কারের হুমকির মুখে ওই শিক্ষক তাঁকে রাজনৈতিক ফোকাস, স্বকীয়তা ও অ্যাক্টিভিজম ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যৌক্তিক সমালোচনার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনন্যা লেখেন, “একজন মানুষ তার মতামত, সমর্থন দিতে পারবে না? যৌক্তিক সমালোচনা করলেই গলা টিপে ধরা হবে?”
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “আমরা স্রোতের বিপরীতে হাঁটছি, হাঁটবো। আমরা টাকা খেয়ে বা শুয়ে কিছু অর্জন করি না, তাই আমাদের কিছু হারানোর ভয় নাই। আমাদের সংগ্রাম আদর্শকে রক্ষার জন্য।” এ সময় সহযোদ্ধা আঞ্জুমান ইকরার প্রতি সংহতি জানান অনন্যা ফারিহা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য তার সাথে মুঠফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথা বলতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের সাথেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।