পাবনার সাঁথিয়া শিক্ষা অফিসের আর্থিক দুর্নীতি বিষয়ের তদন্ত চলমান
পাবনার সাঁথিয়ায় শিক্ষা অফিসের আর্থিক দুর্নীতি বিষয়ে গত মঙ্গলবার পাবনা জেলা শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত টিম এসেছিলেন তদন্ত করতে। সাঁথিয়া ইউআরসি অফিসে ৪৯ জন শিক্ষককে ডাকা হয় আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সোনালী ব্যাংক সাঁথিয়া শাখার ১৭৫০২ নম্বর সঞ্চয়ী হিসেবের মাধ্যমে আর্থিক দুর্নীতির অধিকাংশ লেনদেন করেছেন বলে শিক্ষকরা জানান।
সাঁথিয়ায় শিক্ষা অফিসের আর্থিক দুর্নীতি তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবির দুপুরে খাবার খেয়ে ৪৯ জন শিক্ষককে বসিয়ে রেখেই পাবনা চলে যান।
এদিকে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই বলাবলি করছেন ডিপিও কে ম্যানেজ করে শিক্ষকদের সাথে দেখা না করিয়েই তারা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
শিক্ষকদের মধ্য থেকে অনেকেই বলেন, ৪৯ জন শিক্ষকের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৬ টাকা রূপালী ব্যাংক সাঁথিয়া শাখার ১৭৫০২ হিসাব নম্বর থেকে তাদের স্বস্ব একাউন্টে পাঠানো হয়। কিন্তু যে হিসাব থেকে শিক্ষকদের একাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে ঐ হিসাব নম্বর কোন একজন শিক্ষকের।
কোন শিক্ষকের ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরে অন্য শিক্ষকের টাকা ঢোকার কোন সুযোগ নেই। ১৭৫০২ হিসেব নম্বরে যে টাকা শিক্ষকদের পাওনা টাকার কথা বলা হচ্ছে তা আদৌ সত্য নয়। শিক্ষকরা যে টাকা পেয়েছেন সেটা তাদের স্বস্ব ইএফটি একাউন্টের মাধ্যম পেয়েছেন।
শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, তদন্তের জন্য যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়া হয়েছে, অনেক শিক্ষকের টাকার অংকের সাথে তা গরমিল আছে । শিক্ষকদের কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, আমাকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে ব্যাংক স্টেটমেন্টের টাকার সাথে তা মিল নেই। ব্যাংক স্টেটমেন্ট টেম্পারিং করা হয়েছে। তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি পক্ষ এ কাজ করেছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট জমা দিবো।