তীব্র ক্লাস রুম সংকটে ববি, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে দাঁড়িয়ে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) তে ক্লাস রুম সংকটের কারনে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষাজীবন পার করছেন ববির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষকরাও। করিডোর, ছয়দফা কিংবা গাছের নিচে ক্লাস করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তির কথা শিক্ষার্থীরা বলে আসলেও ক্লাস রুম সংকট নিরাসনে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
গত ৬ই এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতে দেখা যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলাম কে। এরপর আরও তীব্র ভাবে প্রশ্ন উঠে এই ভোগান্তির নিরসন নিয়ে। এর আগেও ক্লাস রুম সংকটের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গাছের নিচে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দফা চত্বরে ক্লাস নিতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট ২৫ টি ডিপার্টমেন্টের ১২৫ টিরও বেশি ব্যাচের জন্য ক্লাস রুম রয়েছে মাত্র ৩৬ টি। অনেক ডিপার্টমেন্টের রয়েছে মাত্র একটি ক্লাস রুম। আবার অনেক ডিপার্টমেন্টকে মাঝে মধ্যেই দেখা যায়, অন্য ডিপার্টমেন্টের সাথে একটি ক্লাস রুম ভাগাভাগি করে ক্লাস করতে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অনেক কলেজ থেকেও সুযোগ সুবিধায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যার ফলাফল স্বরূপ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় সময়ই ক্লাস করতে এসে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ক্লাস ফাঁকা হবার অপেক্ষায়। এমনকি প্রায় সময়ই বিভিন্ন ভবনে ঘুরতে হয় ক্লাস করার জন্য ফাঁকা ক্লাস রুম খুঁজতে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অলিভ খান বলেন, ক্লাসরুমের সংকট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছে। একটি বিভাগের জন্য মাত্র একটি ক্লাসরুম, অথচ চলছে একাধিক ব্যাচ। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়কেই ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে না। আবাসন সংকটও রয়ে গেছে সমানভাবে। এভাবে অপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা জাতির জন্য উদ্বেগজনক ফল বয়ে আনতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের অভাবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক ক্লাসের জন্য রুম না থাকায় অনেক সময় ক্লাস বাতিল বা পরিবর্তন করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় সমস্যা তীব্র হচ্ছে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও ক্লাসরুম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক মো. সানবিন ইসলাম বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মাত্র একটি করে ক্লাসরুম। একই সময়ে অনেক টিচারের ক্লাস একসাথে পড়ে কিন্তু পর্যাপ্ত ক্লাস রুম না থাকায় টিচাররা প্রপার ডেলিভারি যথাসময়ে দিতে পারেন না। এখানে সমস্যাটা মূলত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের, ক্লাস রুম সংকটের পাশাপাশি টিচারদের রুম সংকটসহ ওভার অল একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ক্লাস সংকটের কারনে মূল সমস্যা হলো আমরা শিক্ষার্থীদের প্রপারভাবে শিখাতে পারি না। যেমন একটা কোর্সে ৩০ বা ৩৫ টা লেকচারের কথা উল্লেখ থাকলেও ক্লাস রুম সংকটের কারনে আমরা সেটা প্রপারভাবে শিক্ষার্থীদের ডেলিভারি দিতে পারছি না। যার কারনে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, সেদিনের বিষয়টি ছিলো, আমি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু বেশি সময় ক্লাস নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু ক্লাস রুম ফাঁকা না থাকায় আমি করিডোরে দাঁড়িয়েই লেকচার দিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, এখানে সংকট অনেক। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম সংকট প্রকট। বিগত সময়ে এ বিষয়ে নজর দেয়া দরকার ছিলো। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যা এতো বেশি যে, এখানে শিক্ষার্থীদের এই মারাত্মক সমস্যার দিকে নজর দেয়া অসম্ভব করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, আমি মন্ত্রণালয় কথা বলেছি। একটা ভবন হলেও আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতেই হবে বলেছি। সবকিছু মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এখন অনুমোদনের অপেক্ষা।