হাবিপ্রবিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজিত
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী বিভিন্ন ইভেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন।
রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান। এ ছাড়াও বিভিন্ন হলের হল সুপার, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে তিলাওয়াত ও গীতাপাঠের পর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ক্রীড়াবিদদের শপথ পাঠ ও মশাল প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে মাঠের কার্যক্রম শুরু হয়।
আকর্ষণীয় মার্চ পাস্ট দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরে উপাচার্য আকাশে রঙিন বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান যে, এই ধরনের আয়োজন তাদের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা মনে করেন, কেবল ক্লাসরুমের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এমন ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত চেতনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এই দিনটি ছিল বার্ষিক উৎসবের মতো, যা তাদের নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।
বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও ট্রফি তুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। সফলভাবে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করায় তিনি আয়োজক কমিটি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্রীড়া ঐতিহ্য আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়েও তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।