চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ১৫
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির ক্যাপশন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের একটি গ্রাফিতির ক্যাপশন লেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল, যা আজ সকালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ভবনের দেওয়ালে আঁকা একটি গ্রাফিতির ক্যাপশন মুছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার শুরু। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের কর্মীরা ক্যাপশন মুছে দেওয়ায় তারা অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ছাত্রদল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ছাত্রশিবিরের মহানগর প্রচার সেক্রেটারি জাহিদুল আলম জয়ের দাবি, হামলায় কলেজ শিবিরের সভাপতি মিসকাত হাসান ও কর্মী আশরাফসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে দুইজন শিক্ষকও আহত হন। আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন জানান, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঝামেলার শুরু। তাঁর দাবি, শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বড় জমায়েত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করে। এই ঘটনায় আহত ছাত্রদল কর্মীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পাসের ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ছাত্রশিবির। একই সময়ে ছাত্রদল সেখানে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে হাজির হলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের পর থেকে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।