টিম হাওয়ার্ডের সেই অতিমানবীয় কীর্তি
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১৬ দিন। মাঠের লড়াই শুরুর আগে ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের নানাবিধ রেকর্ড আর রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি। এমনই এক অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় কীর্তি গড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড হয়ে আছে।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচে বেলজিয়াম একের পর এক আক্রমণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোলপোস্টের সামনে যেন একাই চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টিম হাওয়ার্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে পুরো ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে মোট ১৬টি ‘সেভ’ করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি একক ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সবচেয়ে বেশি সেভ করার রেকর্ড এটিই।
ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধ চলাকালীন সময়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে (বর্তমান এক্স) ‘#ThingsTimHowardCouldSave’ (যেসব জিনিস টিম হাওয়ার্ড বাঁচাতে পারতেন) হ্যাশট্যাগটি তুমুল ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসে।
টিম হাওয়ার্ডের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে সমর্থকেরা রসিকতা করে পোস্ট করতে থাকেন—ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়া, গেম অব থ্রোনসের চরিত্র নেড স্টারক, হলিউড সিনেমার প্রাইভেট রায়ান কিংবা ঐতিহাসিক টাইটানিক জাহাজ ডুবে যাওয়া—সবকিছুই নাকি বাঁচাতে পারতেন হাওয়ার্ড!
যদিও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। কিন্তু ম্যাচ হেরেও সেদিন বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তের মন জয় করে নিয়েছিলেন হাওয়ার্ড।
টিম হাওয়ার্ডের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সতীর্থ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও। ইংলিশ ক্লাব এভারটনের হাওয়ার্ডের সতীর্থ এবং বেলজিয়ামের তারকা কেভিন মিরালাস ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘আমার লাইফে দেখা অন্যতম সেরা গোলকিপিং পারফরম্যান্স এটি। আমাদের বারবার মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল হয়ে গেল, কিন্তু সে কীভাবে যে ওগুলো আটকে দিচ্ছিল, আমি জানি না।’
এমনকি বেলজিয়ামের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুও হাওয়ার্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তার এই পারফরম্যান্সের প্রশংসা করার মতো ভাষা আসলে আমার জানা নেই।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচ হারলেও ১৬টি সেভ করার সেই রেকর্ড টিম হাওয়ার্ডকে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে। নতুন আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফুটবল দুনিয়া আবারও অপেক্ষা করছে এমন কোনো অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখার।
