মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ফেভারিট বাংলাদেশ ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা মাঠের পারফরম্যান্সে সেই দাপট ধরে রাখলেও মাঝপথে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কা উড়িয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে টাইগ্রেসরা। প্রথম জয়েই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগ্রেসদের হয়ে গোল চারটি করেছেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উমহ্লো মারমা, সুরভী আকন্দ প্রীতি ও কোহাতি কিসকু।
সাফের এবারের আসরে ‘বি’ গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে মালদ্বীপ ছাড়াও বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ১১-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল মালদ্বীপ। আর আজ বাংলাদেশের কাছে হারায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তাদের।
ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ ও ভারত। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ আর ভারত। সেই ম্যাচের জয়ী দল সেমিফাইনালে যাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকবে সেটাই।
মালদ্বীপের বিপক্ষে আগের চার দেখার সবকটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কোচ পিটার বাটলারের দল। গোলের দেখাও মেলে দ্রুত। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন আনিকা। এরপর ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উমহ্লো মারমা।
২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই বাংলাদেশের খেলায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। সেই সুযোগে বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দুই গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে মালদ্বীপ। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে মালদ্বীপের নোরা গোল করে ব্যবধান কমান (২-১)। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে ফাজলা গোল করলে ২-২ সমতায় ফেরে মালদ্বীপ।
ম্যাচে সমতা ফিরলেও টাইগ্রেসদের বেশিক্ষণ চেপে রাখতে পারেনি মালদ্বীপ। মাত্র ৬ মিনিট পরেই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা সুরভী আকন্দ প্রীতি গোল করে আবারও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মালদ্বীপের জালে বল জড়ান এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে মালদ্বীপের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন কোহাতি কিসকু। ঋতুপর্ণা চাকমার চমৎকার কর্নার কিক থেকে হেডের মাধ্যমে মালদ্বীপের জালে বল পাঠান তিনি। ফলে ৪-২ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।