ধার করা বুটের সেই রেকর্ড, যা আজও ভাঙতে পারেনি কেউ!
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস মানেই রেকর্ডের ছড়াছড়ি। তবে এমন কিছু রেকর্ড আছে, যা সময়ের পরিক্রমায় রূপকথাকেও হার মানায়। তেমনই এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের স্ট্রাইকার জাস্ত ফন্টেইন। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ৬ ম্যাচে ১৩টি গোল করেছিলেন তিনি। এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের এই রেকর্ড গত ৬৪ বছরেও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।
ফন্টেইনের এই রেকর্ডের পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ও সিনেমাকেও হার মানানো গল্প। সেই বিশ্বকাপে মাত্র এক জোড়া বুট নিয়ে সুইডেনে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ, ফ্রান্সের মূল একাদশে খেলার তেমন কোনো আশাই ছিল না তাঁর।
কিন্তু ভাগ্য যেন ফন্টেইনের জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে দলের কয়েকজন ফুটবলার চোটে পড়েন। ফলে বাধ্য হয়েই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ফন্টেইনকে দলে সুযোগ দেন কোচ আলবার্ট বাত্তেউক্স।
সুযোগ পেয়ে ফন্টেইন যখন স্বপ্নের জাল বুনছেন, ঠিক তখনই ঘটে বড় বিপত্তি। ম্যাচের আগের শেষ অনুশীলন সেশনে তাঁর একমাত্র বুট জোড়া ছিঁড়ে যায়। ফন্টেইন পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল, জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগটি বুঝি হাতছাড়া হয়ে গেল।’
ঠিক সেই মুহূর্তে ফন্টেইনের পাশে এসে দাঁড়ান তাঁরই সতীর্থ স্টেফেন ব্রুয়ি। ফন্টেইনের পায়ের সাইজের সঙ্গে কেবল তাঁর জুতোর সাইজই মিলত। মজার ব্যাপার হলো, ব্রুয়িও ছিলেন একজন ফরোয়ার্ড এবং দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ফন্টেইনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু মাঠের লড়াই ভুলে উদারতার পরিচয় দেন ব্রুয়ি। নিজের বুট জোড়া ফন্টেইনকে ধার দেন তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছ থেকে ধার নেওয়া সেই বুট পায়ে দিয়েই ইতিহাস গড়েছিলেন ফন্টেইন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতি ৪২ মিনিটে গড়ে একটি করে গোল করেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। এরপর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোল এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুটি গোল করেন তিনি।
সেমিফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষেও পান একটি গোল। তবে সেই ম্যাচে তাঁর দল অবশ্য জয়ের দেখা পায়নি। তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ খেলতে হয় ফ্রান্সকে। সেই ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে একাই ৪ গোল করে ফ্রান্সকে এনে দেন বড় জয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় ফন্টেইনের পরেই আছেন হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ১১টি গোল করেন তিনি। তৃতীয় স্থানে আছেন পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোলটি করেন মুলার। এছাড়া ব্রাজিলের আদেমির ও পর্তুগালের ইউসেবিও ৯টি করে গোল করেছিলেন।