হাতিয়ায় বাড়িতে হামলার অভিযোগ তুলে তদন্ত ও নিরাপত্তা চাইলেন জাবি ছাত্রদল নেতা
নিজ গ্রামের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আব্দুল গাফফার। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গাফফার চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, তার পরিবার ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের বিরুদ্ধে সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ‘তিন কোটি টাকার ডিল’ সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপন করেন।
গাফফারের দাবি, ওই অভিযোগ প্রকাশের পর থেকেই তিনি হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে তার নোয়াখালীর হাতিয়ার গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী তার বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল গাফফার বলেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়, বরং জনস্বার্থ ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন থেকেই তিনি এসব অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নেতাকর্মীদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই বলে জানান, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বলে দাবি করেন গাফফার।
এছাড়া তার কাছে এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যেখানে হামলার ঘটনায় নিজেদের কর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সাংসদ হান্নান মাসুদ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন আব্দুল গাফফার।
