সোমবার সিন্ডিকেটে জাবিতে জুলাই হামলার বিচার, কী চায় ছাত্র সংগঠনগুলো?
জুলাই ২০২৪-এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মদদদাতা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামীকাল সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদনটি দাখিলের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপে প্রবেশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় এ মুহূর্তে এর বেশি মন্তব্য করতে চাই না।’
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি প্রতিবেদনটি সুষ্ঠুভাবে দাখিল হবে এবং বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে শাস্তির মুখে না পড়েন, সে বিষয়েও প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকা প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে প্রতিবেদনটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। তবে অভিযুক্তরা তাদের প্রাপ্য শাস্তি পাবেন কি না এবং তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর তদন্ত প্রতিবেদনটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। আশা করি বিচার প্রক্রিয়া বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হবে।’ পাশাপাশি বিচারকাজ ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় হামলার ঘটনায় জড়িত ১৮৯ জন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৬৪ জন বর্তমান শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার এবং ৭৩ জন সাবেক শিক্ষার্থীর একাডেমিক সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়।