চলাচলে অক্ষম ব্যক্তির পাশে দাঁড়ালেন পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের উদ্যোগে এক শারীরিকভাবে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিকে একটি স্ট্রেচার উপহার দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ওই ব্যক্তির হাতে স্ট্রেচারটি তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “মানবিকতা শুধু একটি শব্দ নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চলাচলে অসুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। তাঁর কষ্টের কথা বিবেচনা করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম ব্যাচের কয়েকজন বন্ধু মিলে তাঁর চলাচল সহজ করতে একটি স্ট্রেচার উপহার দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই ছোট উদ্যোগ যদি একজন মানুষের জীবনকে কিছুটা সহজ করে এবং অন্যদেরও মানবিক কাজে অনুপ্রাণিত করে, তাহলেই আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক।”
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইমন বলেন, “প্রায় এক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে এক অসহায় ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকে তিনি আর দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারেন না। অনেকের কাছে সাহায্য চাইলেও তিনি একটি স্ট্রেচার পাননি।”
তিনি বলেন, “সেদিনই তাঁকে কথা দিয়েছিলাম, বন্ধুদের সহযোগিতায় একটি স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, সবার সহযোগিতায় আজ সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি। তাঁর মুখের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
স্ট্রেচার পাওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “প্রায় তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকে আমি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলাম না। শিক্ষার্থীরা আমার কষ্টের কথা জেনে বন্ধুদের সহযোগিতায় আমার জন্য একটি স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, আজ তারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থাকার তাওফিক দান করেন। আমীন।”
শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এমন উদ্যোগকে অনুসরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন।