‘৩৬ জুলাই ফিস্ট’ আয়োজনে কী ভাবছে জাবি প্রশাসন?

জাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘৩৬ জুলাই’ (৫ আগস্ট) উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট আয়োজনের গুঞ্জন চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট বাজেট না থাকায় বিকল্প উৎস থেকে অর্থসংস্থানের চেষ্টা করছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফিস্ট আয়োজনের একটি প্রস্তাবিত রোডম্যাপও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে জাবি শাখা ছাত্রদল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) ও ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট আয়োজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের একটি রীতি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ‘৩৬ জুলাই’ (৫ আগস্ট) উপলক্ষে বিশেষ ফিস্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও একই ধরনের আয়োজনের আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব বলেন, “আমাদের আসলে এ আয়োজনের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের ফিস্টের জন্য যে বরাদ্দ থাকে, সেখান থেকে কোনোভাবে বাজেট সমন্বয় করা যায় কি না। আসলে পুরো বিষয়টিই বাজেটের ওপর নির্ভর করছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ফিস্ট আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবর বলেন, “শিক্ষার্থীদের চাওয়ার জায়গা থেকে আমরা স্যারের সঙ্গে দেখা করে ‘৩৬ জুলাই’ উপলক্ষে একটি ফিস্ট আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা অন্তত একটি হাফ ফিস্ট হলেও আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা একটি রোডম্যাপও দিয়েছি। সেখানে প্রস্তাব করেছি, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০০ টাকা দেওয়া হলে জনপ্রতি প্রায় ২০০ টাকার বাজেটে রোস্ট, পোলাও, মুরগিঘন্ট ও কোল্ড ড্রিংকসসহ একটি ফিস্ট আয়োজন করা সম্ভব।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাজেট সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পরই ফিস্ট আয়োজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।