জাবিতে রিকশা লাইসেন্সে চাঁদার অভিযোগ, ঢাকা মনিটর ২৪-এ সংবাদ প্রকাশের পর অর্থ ফেরতের দাবি

জাবিতে র‍্যাগিং: পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ক্যাম্পাসে অটোরিকশা চলাচলের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নামে রিকশাপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন রিকশাচালক। তবে টাকা ফেরতের সময় বিষয়টি প্রকাশ না করতে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের উচ্চমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং শহীদ সালাম-বরকত হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেনের নামও উঠে আসে। তবে মনির, জিতু ও মারুফ—তিনজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী রিকশাচালক বলেন, “শহীদ সালাম-বরকত হলের কর্মচারী মনির ও সোহেল আমাদের জানান যে, ক্যাম্পাসে অটোরিকশার অনুমোদনের বিষয়টি তাঁরাই দেখাশোনা করছেন। তবে এর জন্য প্রতিটি লাইসেন্স বা নম্বর বাবদ তাঁদের ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে।”

তিনি আরও জানান, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, “ফরম জমা দেওয়ার সময় মনির আমাদের শিখিয়ে দেন, কোনো সমস্যা হলে যেন বলি জাকসু থেকে জিতু ভাই পাঠিয়েছেন। পরে একপর্যায়ে একটি ফরম বাতিলের কথা উঠলে সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাইয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করতে বলা হয়।”

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা কয়েকজন মিলে চুক্তির একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা অগ্রিম হিসেবে মনিরের হাতে তুলে দিই। কিন্তু টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা ভয় পেয়ে যান এবং আমাদের ডেকে সেই টাকা ফেরত দেন।”

তবে টাকা ফেরত দেওয়ার সময়ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “টাকা ফেরত দেওয়ার সময় মনির আমাদের বলেন, ‘ঝামেলা ঠান্ডা হলে পরবর্তীতে এই টাকা আবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা চেয়ে নেব।’ এছাড়া বিষয়টি জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে রিকশা চালানো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া এবং এলাকায় টিকতে না দেওয়ারও হুমকি দেন।”

আরেক ভুক্তভোগী জানান, অর্থের ব্যবস্থা করতে তাঁকে চরম কষ্ট করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “চাকরি হারানোর পর থেকে সংসারের ঘানি টানতে বাধ্য হয়ে অটোরিকশা চালাই। ক্যাম্পাসে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে শুনে অনেক কষ্ট করে এক পরিচিতের কাছ থেকে ধারদেনা করে ওই টাকার ব্যবস্থা করেছিলাম।”

তবে এমন অভিযোগকে অস্বীকার করে অভিযুক্ত সোহেল (শহীদ সালাম বরকত হল কর্মচারী) বলেন, আমি এসব ব্যাপারে অবগত নই। আমি সালাম বরকত হলের কর্মচারীর কাজ করি, সেই সুবাদে মনির ভাইকে চিনি।

নতুন করে অভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, এগুলো আমার নামে যা ছড়ানো হচ্ছে বা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতোমধ্যে প্রকাশিত এক রিপোর্টের মাধ্যমে আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। আমি ছোট একটা চাকরি করি। আমি টাকা নেওয়া বা দেওয়া কোনো জায়গায়ই ছিলাম না।

এর আগে গত ১৬ জুলাই ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথনে মনির হোসেনকে এক রিকশাচালকের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে নির্ধারিত ৬ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

অডিওতে মনিরকে বলতে শোনা যায়, “কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবা জিতু ভাই নম্বর করে দিছে।” একই সঙ্গে তিনি চালককে বলেন, “কোনো সমস্যা হলে বলবা সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ ভাই আমাকে রেফার করছে।”

এদিকে আবেদন ফরম পর্যালোচনায় কয়েকটিতে সুপারিশকারীর স্থানে হাতে লেখা “জিতু/জাকসু” উল্লেখ পাওয়া যায়।গ