তারেক রহমানের জীবনও ছিল ঝুঁকিতে : জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনও চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল।’ তিনি দাবি করেন, সে সময় ক্ষমতাসীনরা জানত, দেশের বাইরে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেও কোথা থেকে রাজনৈতিক কৌশল ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছিল।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের সন্ধ্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, “তারেক রহমানের যেখানে জীবন বিপন্ন ছিল, দেশে ফেরা তো দূরের কথা, জীবন নিয়ে বেঁচে থাকারও কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। কারণ ফ্যাসিস্ট শক্তি ভালো করেই জানত, আট হাজার কিলোমিটার দূরে কোথায় মাস্টারমাইন্ড অবস্থান করছেন। দেশের মানুষ আজ তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এ আন্দোলন নিয়ে আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠানে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২২ মাসের অভিজ্ঞতার সঙ্গে জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা এবং সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু।

এছাড়া বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আন্দোলনের চেতনা ধারণের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।