হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১ এ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম এমদাদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সম্মানিত সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান এবং প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদীয় ডীনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন শাখার পরিচালকবৃন্দ, শহীদ রুদ্র সেন ও শহীদ রাহুল এর বাবা-মাসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “২৪-এ আমরা দেশীয় ফ্যাসিবাদ ও বর্হিবিশ্বের ম্যাকানিজম থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। ২৪ এর চেতনা অত্যন্ত ব্যপক ও বিস্তৃত। ৭১ এ আমরা ভৌগোলিক সীমানা পেয়েছি কিন্তু, জুলাই-এ আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি– শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আমরা স্বাধীন হয়েছি।”
তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে একটি সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে তরুণ-যুবকরা জুলাইয়ে ২য় বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে যখন আমরা অতিষ্ট ঠিক তখনই তরুণ-যুবকদের সাথে আপামর জনতা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
হাবিপ্রবি ভিসি বলেন, “আজ ২জন শহীদ রাহুল ও রুদ্রের বাবা-মা আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন তাই আমরা গর্ববোধ করছি। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “নিজেদের জীবন বাজী রেখে জুলাই গণ-অভ্যূত্থানে তোমাদের অংশগ্রহণে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাই, এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যও তোমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারব। দেশকে বাঁচাতে হলে আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আসুন সবাই মিলে দেশ গড়ি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গর্বিত এ কারণে যে দিনাজপুরের কৃতি সন্তান পুতুলের সন্তান জনাব তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাই, নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাঁর নেতৃত্বে আমাদের সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে। সর্বোপরি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চতার শিখরে পৌছাতে হলে আমাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্যে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।”
আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, “একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করায় মহান আল্লাহ্র নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই৷ জুলাই ২৪ আন্দোলন চলাকালে সব সময় সকলের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছি। মুর্হুমুহু গুলি ও টিয়ারশেল উপেক্ষা করে সেই উত্তাল দিনগুলির লোমহর্ষক ঘটনাসমূহের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বর্তমান হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অর্নবের সমস্ত শরীরে পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতের কথা উল্লেখ করেন।”
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এদেশে আর কোন দিন স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্থান হবেনা। একই সাথে তিনি শহীদ রুদ্র ও শহীদ রাহুলের পরিবারকে ধন্যবাদ জানান।”
আলোচনা সভায় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মাসুদুল হাসান খান ২৪ এর জুলাইয়ের সকল শহীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, “২৪ এর জুলাই আন্দোলন ক’দিনে গড়ে ওঠেনি। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এর বীজ বপন হয়। আমাদের সকলকে জুলাই ২৪ এর চেতনাকে ধারণ করতে হবে।
শহীদ রাহুল ও রুদ্র সেনের বাবা মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি সন্তান আপনার সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
শহীদ রাহুলের বাবা জনাব মোসলেম উদ্দিন তার বক্তব্যে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে এগিয়ে আসার আহবান জানান। শহীদ রুদ্র সেন এর বাবা সুবির সেন সকল শহীদদের আদর্শ ও চেতনা ধারণের জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।
ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালাম, হাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইউট্যাব এর সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান, সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর, অফিসার্স ফোরামের পক্ষ থেকে ড. মো. নূর-এ-আলম সরকার, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের পক্ষথেকে এ.কে. এম. ইমতিয়াজ ফারুক, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মো. নুরুল আমিন।
জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও জুলাই চেতনা ও তাৎপর্যের উপর বক্তব্য দেন হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি মো. এহসানুল কবির অর্নব ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।