জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল-বেরুনী হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করে শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে আল-বেরুনী হলে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (আবীর)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে তিনি আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পলাতক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে একদল শিক্ষার্থী তাকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং মেহেদী প্রক্টর অফিসে মুচলেকা দেবেন বলে জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান আবীর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক এনাম ও সোহেল রানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তাকে ভিপি জিতুর মোটরসাইকেল চালক হিসেবেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে ছাত্রশক্তির নেতা আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘আবীর নিয়মিত জুলাইবিরোধী পোস্ট দিত, ছাত্রলীগের পোস্ট শেয়ার করত এবং আমাদের বিরুদ্ধে হুমকিসংবলিত পোস্টেও সমর্থন জানাত। বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সে ক্ষমা চায় এবং জানায়, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর উপস্থিতিতে প্রক্টর অফিসে মুচলেকা দেবে।’
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মোহাম্মদ রাজন মিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পেয়ে আমরা সেখানে যাই। সে সবার সামনে ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলে জানিয়েছে। যেহেতু সে ভিপি জিতুর হল ও বিভাগের ছোট ভাই, তাই ভিপি নিজেই তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছেন।’
শাখা ছাত্রশিবিরের দাওয়া সম্পাদক ও জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক শাফায়েত মীর বলেন, ‘আবীরকে জুলাইবিরোধী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে সমর্থন দিতে দেখা গেছে। এ কারণে তাকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তরের জন্য আমরা আল-বেরুনী হলে যাই। কিন্তু সেখানে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু প্রথমে বাধা দেন। পরে আবীরকে ডেকে এনে সবার সামনে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং এরপর তাকে রুমে চলে যেতে বলেন।’
এ বিষয়ে কথা বলতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।