রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে আবারও দেখা মিলেছে বামনী শালিকের (Brahminy Starling) প্রজনন কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের পুরোনো গাছের কোটরে বাসা বেঁধে বাচ্চা লালন-পালন করছে এই আকর্ষণীয় পাখি। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমী আলোকচিত্রী ফাহিম মুনতাসির রাফিনের তোলা কয়েকটি আলোকচিত্রে বাসার আশপাশে বামনী শালিকের বিচরণ ও বাচ্চাদের খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে।
এ বিষয়ে রাফিন বলেন, “শঙ্খ শালিক বা বামনী শালিক ক্যাম্পাসে বহু জায়গাতেই আমি দেখেছি (যেমন: পশ্চিমপাড়া, শহিদ মিনার)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে খুবই কম দেখা যায়। বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মিতভাবে এদের পাওয়া গেছে। কিন্তু, রাবিতে এদের নিয়মিত এবং ভালো সংখ্যায় পাওয়া যায় আর সবচেয়ে ভালো কথা হলো এদের ব্রিডিং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়; ক্যাম্পাসের বাইরে ২-১ জায়গায় রেকর্ড আছে। কিন্তু ক্যাম্পাস এদের বাসা করার প্রিয় জায়গা। এটি শালিক প্রজাতির পাখি, ইংরেজি নাম Brahminy Starling”
প্রজনন মৌসুমে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় পাখিই বাসা নির্মাণ, ডিমে তা দেওয়া এবং ছানা লালন-পালনের কাজে অংশ নেয়। সাধারণত গাছের কোটর, পুরোনো কাঠঠোকরার গর্ত কিংবা প্রাকৃতিক ফাঁপা স্থানে এরা বাসা তৈরি করে। মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়কে এদের প্রধান প্রজননকাল হিসেবে ধরা হয়।
পাখি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুজ্জামান মো. সালেহ রেজা বলেন, “বামুন শালিক এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বলা যায়, বিরল থেকে অতি বিরল। এখন আর চোখেই পড়ে না! আমাদের দেশে এদের অত্যন্ত কম সংখ্যায় দেখা যায়।”
এর নামকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “বেঁটে আকৃতি এবং একটি ইংরেজি নামের অনুসরণে এটিকে বামুন শালিক হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন-আমাদের শঙ্খচিল পাখি। এর ইংরেজি নাম ‘ব্রামিনি কাইট’। বামুন শালিককেও একই কারণে ‘শঙ্খ শালিক’ নামে ডাকা হয়।”
জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বহু বছর ধরেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ সবুজ পরিবেশ, পুরোনো বৃক্ষ এবং তুলনামূলক শান্ত আবাসস্থল বামনী শালিকের মতো পাখির প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে বামনী শালিকের সফল প্রজনন শুধু একটি পাখির বংশবৃদ্ধির ঘটনা নয়; বরং এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যেরও একটি ইতিবাচক নির্দেশক।