জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলছেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সম্প্রতি শিক্ষকদের গবেষণা প্রবন্ধে অনিয়মের অভিযোগে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষকদের সামনে গালিগালাজ, দোকানে বকেয়া এবং বৈধ ছাত্রত্ব নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসন কেন তদন্ত করছেন না?
এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “কোথায় অভিযোগ? আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। আমরা লিখিত অভিযোগ না পেলে শুধু সংবাদের প্রেক্ষিতে কোনো বিষয়ে তদন্ত কমিটি করতে পারি না।”
তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক আরেকটি সিদ্ধান্তে। গত ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, “কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়া এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এ তদন্ত কমিটি গঠন করে।”
প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার এই বক্তব্যে তদন্ত কমিটি গঠনের নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে উপ-উপাচার্য বলছেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া তদন্ত সম্ভব নয়; অন্যদিকে রেজিস্ট্রার বলছেন, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জাকসুর ভিপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও একাধিক সংবাদ প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক আহসান লাবীব বলেন, “এটা আসলে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব। প্রশাসন চাইলেই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পারে। কারণ একজন মানুষের নামে বারবার অভিযোগ আসার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সংবাদমাধ্যমও প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ভিন্নমুখী বক্তব্য এবং দুই ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সমতা ও নীতির প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।