রাজনীতি নিষিদ্ধ ববি ক্যাম্পাস : পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের

রাজনীতি নিষিদ্ধ ববি ক্যাম্পাস : পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের

‎বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল প্রকার রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আইন থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে  জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি কাউন্সিল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন শেষে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি আত্মপ্রকাশ পেয়েছে।

‎শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি কাউন্সিল সম্মেলনের আয়োজন করে। কাউন্সিল সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যানারে নাম দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বছিরের। সম্মেলনের বিশেষ অতিথি সাদা দলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ। ব্যানারে তাদের নাম থাকলেও প্রোগ্রামে তারা অংশগ্রহণ করেননি বলে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে।

‎সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ১৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের একটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সভাপতি করা হয়েছে কর্মচারী মো. মামুন শেখকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে কর্মচারী মো. জাকির মৃধা। বাংলাদেশ আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন ও সদস্য-সচীব ফিরোজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদিও কমিটি কবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তার কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা যে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ বা সাদা দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় তারা আদৌ সাদা দল কিনা সেটাও বড় একটি প্রশ্ন। এরমধ্যে অনেকের আওয়ামীলীগের তদবিরে চাকরি হয়েছে এবং আওয়ামিলীগের  রাজনীতেতেও সক্রিয় ছিলেন। সবথেকে বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সিন্ডিকেটে পাশ করে সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে এখন পর্যন্ত। সেখানে ঐ আদেশ যতদিন বহাল থাকবে ততদিন এসব রাজনীতি করার সুযোগ নেই। পুনরায় যদি সিন্ডিকেটে এই আদেশ বাতিল করে রাজনীতি করার সুযোগ দেয় তাহলে করা যাবে তার আগে এটি অবৈধ।

‎বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মামুন শেখ এবিষয়ে বলেন,”আমরা বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যাল জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশন তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের অনুমতি দেয় নাই। রাজনীতি নিষিদ্ধ এটা আমরা জানি, এটা আপনারা এভাবে নিবেন না। কর্মচারীদের ভিবিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরার জন্যই আমাদের  এই পরিষদ।”

‎সম্মেলন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. হাসানুজ্জামান যিনি আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সদস্য-সচিব মো. ফিরোজুল ইসলাম।

‎এদিকে গত ১১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম (বিশেষ)  সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়প সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু কাগজে কলমে এই আদেশ থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠনের কমিটি রয়েছে। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাদা দলের মৌখিক কমিটি রয়েছে বলে জানাগেছে।

যার আহ্বায়ক হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল আলিম বছির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ। জতীয়তাবাদি কর্মচারী পরিষদ আয়োজিত কাউন্সিল সম্মেলনে তাদের দুজনকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে রাখা হয়। যেখানে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও সদস্য  সচিব হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সাদা দলের সদস্য-সচিব সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

‎এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, আমি পরিক্ষার কাজে বাহিরে আছি, এই বিষয়ে আমি অবগত নই। প্রোগ্রামের ব্যানারে আপনার নামম কিভাবে ব্যবহার করা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানি না আমি এখনে একটু ব্যস্তা আছি বিষয়টি জেনে পরে জানাতে পারবো।