রাবির শহীদ শামসুজ্জোহা হলে মশারির ওপর বিষধর কালাচ সাপ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে মশারির ওপর থেকে বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা এসে সাপটি উদ্ধার করেন।

ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি রুমমেটদের জানালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’-কে খবর দেন। খবর পেয়ে সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা সাপটি বিষধর কালাচ (Common krait) বলে নিশ্চিত করেন।

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে শুনি ১২১ নম্বর কক্ষে মশারির ওপর সাপ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ওই কক্ষে যাই। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লকের সবাইকে ডেকে একত্র করি। পরে হল সংসদকে সঙ্গে নিয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বর্তমানে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হল প্রশাসনের কাছে সবাই এর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান প্রত্যাশা করছে।’

উদ্ধারকারী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে আমরা ফোন পাই। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করি। সাপটি ছিল কালাচ (Common krait)।’

কালাচ সাপের বিষ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই সাপের কামড় অত্যন্ত বিষাক্ত। এর বিষ মূলত স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, কামড়ের পর শুরুতে ব্যথা বা দাগ খুব কম থাকতে পারে। ফলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তাঁকে বিষধর সাপে কামড়েছে।’

এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল আমিন সরকার বলেন, ‘হলের পেছনে অনেক জঙ্গল ছিল। গত সপ্তাহে আমি হলের চারপাশ পরিষ্কার করিয়েছি। আমার মনে হয়, সাপের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘রাতে মশারির ওপর সাপ পাওয়ার বিষয়টি আমাকে সকালে জানানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি হলে যাই। গিয়ে দেখি, হলের পেছনের অংশ যথেষ্ট পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন আমাদের আরও বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

হেডলাইন লাইন-ব্রেক (শব্দের মাঝে ↵ চাপুন)
প্রিফিক্স ও প্রতি লাইনের ফন্ট সাইজ ও কালার
লাইন স্পেসিং
--
হেডলাইনের পজিশন