ইবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঘটনায় দুইপক্ষের সমঝোতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মাঝে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঘটনায় দুইপক্ষের মাঝে সমঝোতা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে আলোচনা বসেন। পরে দুইদলের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এ সমঝোতার কথা বলেন।

এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশাসনের সকল পদক্ষেপ সার্বিক সহযোগিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিএনপি-জামায়াত কর্মসূচি ঘোষণা করলে সংঘর্ষের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। এবং ১৪৪ ধারা জারিরও আবেদন জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় আসলে কর্মসূচি স্থগিত রাখে উভয় দল।

শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, গত ৫ তারিখে জিয়া হলে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং তার জেরে ক্যাম্পাসের তৈরি হওয়া থমথমে পরিবেশ আমরা নিজেদের মধ্যে বসে সমাধান করেছি। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ক্যাম্পাসের গেট সংলগ্ন ও বাইরের এলাকাগুলোতে এখনো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা আবারও বৈঠকে বসেছি।

তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বা কেউ তা করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, বহিরাগত কোনো সমস্যা রোধে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদেরও সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর তৈরি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বদা সতর্ক ও সচেষ্ট থাকবে। আমরা সবসময় একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের পক্ষে। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই ছাত্রদলের মূল অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে ছাত্রদল অতীতেও কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাডেমিক পরিবেশ বা ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করতেছে। ইতিমধ্যেই আমরা হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলো, বিশেষ করে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল, এদের সাথে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করে ওরা কিন্তু ওদের মতো করে সমঝোতা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ক্লাস, পরীক্ষা, ছাত্ররা সবকিছু একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেছে।

কুষ্টিয়ার সার্কেল অফিসার মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, উভয় পক্ষের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তাঁরা সবাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নেতৃত্বে আমরাও ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমাদের স্পষ্ট বার্তা হলো—এর মধ্যে যদি কেউ ক্যাম্পাসের ভেতরে বা বাইরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে জেলা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলিনুর রহমান কর্তৃক ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড়ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।