রসায়ন ১৯ ব্যাচের ১৯ গাছ, হাবিপ্রবিতে রেখে গেলেন স্মৃতি

দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের শেষে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় স্মৃতি হিসেবে অনেকেই রেখে যান ছবি, ব্যানার কিংবা নানা স্মারক। তবে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রেখে গেলেন ১৯টি গাছ। নিজেদের ব্যাচের সংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে ক্যাম্পাসে ১৯টি চারাগাছ রোপণ করে বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রসায়ন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ক্যাম্পাসের জন্য স্থায়ী কিছু করে যাওয়ার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯ ব্যাচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯টি গাছ রোপণের মাধ্যমে নিজেদের ব্যাচের একটি স্মৃতি ক্যাম্পাসে রেখে যেতে চেয়েছেন তাঁরা।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার সরকার, লেকচারার মিজানুর রহমান ও মো. সিয়াম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে মোট ১৯টি চারাগাছ রোপণ করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে এসব গাছ বড় হয়ে ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তাঁদের ব্যাচের স্মৃতি বহন করবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পর্কে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, “মাস্টার্স শেষ করলাম। ক্যাম্পাসে স্মরণীয় কিছু করে রাখতে আমাদের এই কার্যক্রম। গাছগুলো সবুজের সমারোহ ছড়াবে, তীব্র তাপদাহে ছায়া দেবে।”

কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁরা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নানা কারণে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটা হারিয়ে গেছে। সেই সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশকে আরও সবুজ করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিদায়ের আগে রোপণ করা ১৯টি চারাগাছ হয়তো আজ ছোট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এগুলো বড় হবে, ছায়া দেবে, বাতাস শীতল করবে । আর সেই সবুজের ভেতর দিয়ে ক্যাম্পাসে থেকে যাবে রসায়ন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায়ের স্মৃতি।