৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় সেরা ৫ স্মার্টফোন
বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল মার্কেটে মিড-রেঞ্জ বাজেটে বেশকিছু স্মার্টফোন পাওয়া যায়। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যের এই মোবাইল ফোনগুলোর সবগুলোর ফিচারই প্রায় কাছাকাছি। তাই চিন্তায় পড়ে যেতে হয়, কোন ফোনটি আসলে আপনার জন্য সেরা হবে।
আপনার সেই চিন্তা কমাতে পারে আমাদের বাছাই করা এই পাঁচটি ফোনের তালিকা। দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইরে মোটামুটি গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও প্লে-ও করা যাবে বেশ সুন্দরভাবে।
Honor GT
ডিসপ্লে সেকশন
ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 6.7 inch AMOLED ডিসপ্লে। ফিচার হিসেবে থাকছে 120Hz Refresh Rate, HDR সাপোর্ট এবং ৪০০০ নিট পিক ব্রাইটনেস। ফলে রোদেও স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যায়।
ক্যামেরা
ফোনটিতে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে 50 Megapixel মেইন ক্যামেরার (OIS সাপোর্টসহ) সঙ্গে 12 Megapixel আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিও করা যাবে সর্বোচ্চ 4K রেজুলেশনে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে 16 Megapixel ক্যামেরা।
চিপসেট
ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 8s Gen 3 যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি। জিপিইউ বা গ্রাফিক্স কার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে Adreno 750 গ্রাফিক্স। Android 15 ভার্সন থাকছে এই ফোনটিতে।
স্টোরেজ
ফোনটি 12GB RAM এ মার্কেটে পাওয়া যাবে। যেটাতে 256GB স্টোরেজ পাচ্ছেন। ইন্টারনাল স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে UFS 4.0 প্রযুক্তি।
ব্যাটারি
৫৩০০ mAh এর পাওয়ারফুল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এই ফোনটিতে। সেটাকে চার্জ করার জন্য থাকছে ১০০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।
ফোনটি কেনো কিনবেন
আপনি যদি গেমিং এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য একটি প্রিমিয়াম ডিভাইস চান, তবে এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ।
দাম: ৩৮,০০০-৪০,০০০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।
iQOO Z10 Turbo
ডিসপ্লে সেকশন
ফোনটিতে 6.78 inches AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিচার হিসেবে থাকছে 144Hz Refresh Rate, HDR সাপোর্ট এবং 3000 nits Peak Brightness।
ক্যামেরা
ফোনটিতে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে 50 Megapixel এর মেইন ক্যামেরার সঙ্গে 2 Megapixel এর ডেপথ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিও করা যাবে 8K রেজুলেশনে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে 16 Megapixel ক্যামেরা।
চিপসেট
ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 8400 যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি। জিপিইউ বা গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে G720 MC7। 12 GB LPDDR5x RAM এর সাথে ফোনটি পাওয়া যাবে 256 GB Internal Storage এ।
ব্যাটারি
7620 mAh এর বিশাল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এই ফোনটিতে। সেটাকে চার্জ করার জন্য থাকছে ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার। যা ফোনটিকে ৫৫ মিনিটে ফুল চার্জ করে দিবে।
ফোনটি কেনো কিনবেন
যারা দীর্ঘক্ষণ গেম খেলতে পছন্দ করেন এবং ফোনে বিশাল ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, তাদের জন্য ফোনটি দারুণ পছন্দ হবে। এর সঙ্গে শক্তিশাল চিপসেট পারফরম্যান্সকে সুন্দর করবে।
দাম: ৩৮,০০০ – ৪০,০০০ টাকা।
Samsung Galaxy A37
ডিসপ্লে সেকশন
ফোনটিতে 6.70 inches Super AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিচার হিসেবে থাকছে 120Hz Refresh Rate, 1900 nits Peak Brightness দেওয়া হয়েছে।
ক্যামেরা
ফোনটিতে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে 50 Megapixel এর মেইন ক্যামেরার (OIS সাপোর্টসহ) সঙ্গে 8 Megapixel আল্ট্রাওয়াইড এবং 5 Megapixel ম্যাক্রো ক্যামেরা রয়েছে। ভিডিও করা যাবে 4K রেজুলেশনে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে 32 Megapixel ক্যামেরা।
চিপসেট
ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Exynos 1480। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি। জিপিইউ বা গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Xclipse 530। Android 15 ভার্সন থাকছে এই ফোনটিতে।
স্টোরেজ
8 GB LPDDR4x RAM এর সাথে ফোনটি পাওয়া যাবে 256 GB Internal Storage এ। ইন্টারনাল স্টোরেজে UFS 3.1 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্যাটারি
ফোনটিতে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে 5000 mAh Battery। যেটাকে দ্রুত চার্জ করার জন্য দেওয়া হয়েছে 45W fast charging সিস্টেম।
ফোনটি কেনো কিনবেন
যারা ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেট খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ।
দাম: বর্তমানে ফোনটির আনঅফিসিয়াল ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে ৩৯,০০০ টাকা বা এর আশেপাশে।
Redmi Turbo 4 Pro
ডিসপ্লে সেকশন
ফোনটিতে ৬.৮৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড প্যানেল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিচার হিসেবে থাকছে ১২০Hz রিফ্রেশ রেট এবং ৩২০০ নিট পিক ব্রাইটনেস।
ক্যামেরা
ফোনটিতে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরার সঙ্গে ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড এবং ৮ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিও করা যাবে 8K রেজুলেশনে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
চিপসেট
ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 8s Elite। এটি ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ (UFS 4.1) এ পাওয়া যায়।
ব্যাটারি
৭৫৫০ mAh এর বড় ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এই ফোনটিতে। সেটাকে চার্জ করার জন্য থাকছে ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।
ফোনটি কেনো কিনবেন
ক্যামেরা এবং পারফরম্যান্সের ভারসাম্য যারা খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ।
দাম: ৩৭,০০০ – ৩৮,০০০ টাকা।
Redmi Note 15 Pro Plus
ডিসপ্লে সেকশন
ফোনটিতে ৬.৮৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড প্যানেল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ফিচার হিসেবে থাকছে ১২০Hz রিফ্রেশ রেট এবং ৩২০০ নিট পিক ব্রাইটনেস।
ক্যামেরা
ফোনটিতে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ২০০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরার (OIS সাপোর্টসহ) সঙ্গে ৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিও করা যাবে 8K রেজুলেশনে। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
চিপসেট
ফোনটির চিপসেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 7s Gen 3। এটি ৮ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ (UFS 2.2) এ পাওয়া যায়।
ব্যাটারি
৬৫০০ mAh এর ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এই ফোনটিতে। সেটাকে চার্জ করার জন্য থাকছে ১০০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।
ফোনটি কেনো কিনবেন
ফটোগ্রাফির জন্য সর্বোচ্চ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ।
দাম: ৩৫,০০০ – ৩৬,০০০ টাকা।