২০২৫ সালে ২ হাজার টাকায় সেরা ৩ ইয়ারবাডস
সাধারণত খুব বেশি দামি ইয়ারবাডস কেনা হয় না। প্রাথমিকভাবে ২০০০ বা এর আশেপাশেই বাজেট ধরা হয়। তবে এই বাজেটের মধ্যে বাংলাদেশের মার্কেটে অনেকগুলো ইয়ারবাডস পাওয়া যায়। তাই চিন্তায় পড়তে হয়, কোনটি রেখে কোনটি নিবো। আপনি দুশ্চিন্তা কমাতে পারে এই লেখাটি। ২০০০ টাকার মধ্যে সেরা ৩টি ইয়ারবাডস খুঁজে বের করেছি আমরা।
QCY HT15 (Buds ANC)
ডিজাইন
এর কেসটি আপনাকে বেশ প্রিমিয়াম ফিল দেবে। কারণ এর ওপর রয়েছে লেদার টেক্সার। কোনো দাগ পড়ার তাই কোনো সম্ভাবনা নেই। কেসটিতে বেশ শক্তিশালী ম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে কেস খুলে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।
এর বাডসগুলোতেও একইরকম লেদারের টেক্সার ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে বাডসগুলোতেও কোনো স্ক্র্যাস বা দাগ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও বাডসগুলো ছোট হওয়ায় অনেকক্ষণ পড়ে থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না।
ফিচার
ইয়ারবাডসের প্রতিটি বাডসে রয়েছে ৩টি করে মাইক। অর্থাৎ দুটি বাডস মিলে থাকছে ৬টি মাইক। যেটা কলের জন্য অর্থাৎ ফোনে কথা বলায় দারুণ পারফরম্যান্স দেবে। নয়েজের মধ্যেও বেশ স্বাচ্ছন্দে কথা বলতে পারবেন।
ব্লুটুথ ৫.৪ ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি ফোনের সাথে বেশ ভালোভাবে কানেক্ট করবে। প্রায় ১০ মিটারের মধ্যে কোনো বাধা ছাড়াই মোবাইলের সঙ্গে কানেক্ট থাকবে বাডসগুলো।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে ৩০ হাজার টাকায় সেরা ৩ স্মার্টফোন
IPX4 রেটিং থাকায় স্প্ল্যাশ এবং হালকা পানির ছিটেফোঁটা লাগলে কিছুই হবে না। তবে পানিতে ভেজানো উচিত হবে না।
45db পর্যন্ত নয়েজ ক্যান্সেল করা যায়। QCY অ্যাপের সঙ্গে কানেক্ট করলে নয়েজ ক্যান্সেলেশন মুড কাস্টমাইজ করা যায়। মোট ৪টি নয়েজ ক্যান্সেলেশন মুড রয়েছে–ইনডোর, পাবলিক, ট্রান্সপোর্ট। বাডসটিতে ANC (Active Noise Cancellation) এবং ENC (Environmental Noise Cancellation) সাপোর্ট রয়েছে। ফলে কথা বলা এবং গান শোনা দুটোতেই দারুণ পারফরম্যান্স দেবে।
ব্যাটারি
ANC চালু করা থাকলে একবার চার্জে ৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। আর বন্ধ থাকলে সাড়ে ৫ ঘণ্টা। চার্জিং কেসটি ফুল চার্জ করলে ৪-৫ বার বার্ডগুলো চার্জ করতে পারবেন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৮-২২ ঘন্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ পাবেন।
দাম
QCY HT15 ইয়ারবাডসটি বাংলাদেশে ১৮৫০ থেকে ২১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। দোকান ভেদে দাম বেশি-কম হতে পারে। তবে এই দামের বেশি নয়।
কেন কিনবেন
মার্কেটে এই দামের মধ্যে একটি অন্যতম একটি সেরা ইয়ারবাডস। বিশেষ করে যারা রাস্তা-ঘাটে কথা বলার জন্য একটি ইয়ারবাডস খুঁজছেন এটি তাদের জন্য একটি সেরা পছন্দ হতে পারে। কারণ ৬টি মাইক থাকায় এর কল কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো। এছাড়াও 45db নয়েজ ক্যান্সেলেশন থাকায় বাহিরেও কথা বলতে কোনো বেগ পেতে হয় না।
SoundPEATS T3 Pro
ডিজাইন
এই ইয়ারবাডসের বক্সটিও লেদার ফিনিস হওয়ায় খুব সহজে স্ক্র্যাস বা দাগ পড়বে না। তবে এর গ্রিপ কিছুটা নরমাল QCY HT15 এর তুলনায়। প্রতি ইয়ারবাডসের ওজন মাত্র ৪.১৫ গ্রাম। ফলে অনেক ব্যবহার করা যাবে কোনো অস্বস্তি ছাড়াই।
ফিচার
ইয়ারবাডসটিতে ANC (Active Noise Cancellation) এবং ENC (Environmental Noise Cancellation) দুটির সাপোর্টই আছে। ফলে যেমন দারুণ কল কোয়ালিটি পাবেন, তেমনি বাহিরে মিউজিক শুনেও দারুণ পাফরম্যান্স পাবেন। এর সঙ্গে মোট ৪টি এআই মাইক থাকায় অপর প্রান্তের মানুষ বেশ ভালোভাবে আপনার কথা শুনতে পাবে। এই ইয়ারবাডসটিতে সর্বোচ্চ 35dB পর্যন্ত নয়েজ ক্যান্সেল করা যাবে।
এতে ব্লুটুথ ৫.৪ ভার্সন ব্যবহার করা হয়েছে। ১২ মিটারের মধ্যে ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট করা যাবে। এছাড়াও এতে ডুয়েল মুড সাপোর্ট রয়েছে অর্থাৎ একই সঙ্গে দুটি ডিভাইসের সঙ্গে এটি কানেক্ট করতে পারবেন।
PeatsAudio নামের অ্যাপের সঙ্গে ডিভাইসটি কানেক্ট করা যাবে। সেক্ষেত্রে আরও অনেকগুলো ফিচার সেখানে পাওয়া যাবে।
IPX4 রেটিং থাকায় স্প্ল্যাশ এবং হালকা পানির ছিটেফোঁটা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে পানিতে না ভেজানোই উত্তম হবে। কারণ এটি লো-বাজেটের একটি ইয়ারবাডস। এছাড়াও এই ইয়ারবাডসটিতে Game Mode সাপোর্ট রয়েছে।
ব্যাটারি ব্যাকআপ
বাডসগুলোতে রয়েছে 40mAh এর ব্যাটারি আর চার্জিং কেসে রয়েছে 450mAh এর ব্যাটারি। বাডসগুলো একবার চার্জ করলে ৪-৫ ঘন্টা ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। আর চার্জিং কেস একবার ফুল চার্জ করলে মোট ২৮ ঘন্টার মতো ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।
দাম
SoundPEATS T3 Pro ইয়ারবাডসটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাবে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। কেনার সময় একটু দামাদামি করে নেবেন।
কেন কিনবেন
১৫০০-১৬০০ টাকা বাজেটের মধ্যে এটি বেশ ভালো কোয়ালিটি দেয়। বিশেষ করে যারা এই বাজেটে ডুয়েল ডিভাইস সাপোর্ট ইয়ারবাডস খুঁজছেন তাদের এটি সেরা পছন্দ হতে পারে। ANC আর ENC থাকায় কল কোয়ালিটিও বেশ ভালোই পাওয়া যাবে।
QCY Buds QT43
ডিজাইন
QCY Buds QT43 ইয়ারবাডসটি এর নামের মতোই কিছুটা আলাদা। প্লাস্টিকের উপর ফ্যাব্রিক টেক্সচার করা, যেকারনে স্ক্র্যাস বা দাগ পড়বে না। পাশাপাশি হাত থেকে পড়ে যাওয়ারও কোনো ভয় নেই। এর বাইরের ডিজাইনটা দেখতে বেশ স্টাইলিশ।
ফিচার
ইয়ারবাডসটি কানেক্ট করা জন্য থাকছে ব্লুটুথ ৫.৩ ভার্সন। ১০ মিলি মিটারের ডায়নামিক ড্রাইভার ব্যবহার করা হয়েছে। যার বেস যথেষ্ট ভালো। তবে বেস খুব বেশি না। এটি ১০ মিটারের মধ্যে ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট করা যাবে।
এই ইয়ারবাডসটিতে ANC (Active Noise Cancellation) নেই। তবে ENC (Environmental Noise Cancellation) সাপোর্ট আছে। যেটি বেশ ভালোই কল কোয়ালিটি দিবে।
পানির হাত থেকে বাঁচতে এইেইয়ারবাডসটিতেও IPX4 রেটিংয়ের সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ফলে স্প্ল্যাশ, ঘাম কিংবা হালকা পানির ছিটেফোঁটা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
এছাড়াও QCY এর অ্যাপের সঙ্গে কানেক্ট করা যাবে। যেখানে গেমিং মুড, ইকুয়ালাইজার প্রিসেটসহ বেশ কিছু ফিচার রয়েছে।
ব্যাটারি ব্যাকআপ
প্রতিটি বাডসে 32 mAh ও চার্জিং কেসে 350 mAh এর ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। বাডসগুলো একবার চার্জ করলে ৫-৬ ঘন্টার ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। সবমিলিয়ে ২৪-২৫ ঘন্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে।
দাম
বাংলাদেশের মার্কেটে QCY Buds QT43 ইয়ারবাডসটি ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। সঙ্গে ৬ মাসের অফিসিয়া ওয়ারেন্টি থাকছে।কেন কিনবেন
QCY QT43 এই বাজারের মধ্যে বেশ ভালো একটি ডিভাইস। বিশেষ করে যারা QCY এর লাভার রয়েছেন তাদের জন্য। ডিজাইন ও ব্যাটারি ব্যাকআপও বেশ ভালো। আপনি যদি সাধারণভাবে গান শোনা এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, তাহলে এটি কিনতে পারেন। তবে ANC মুড চাইলে অন্য দুটি ডিবাইস দেখতে পারেন।
আপনি যদি ২০০০ টাকায় ANC এবং ENC সাপোর্ট চান, সঙ্গে দেখতে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির একটি ইয়ারবাডস খুঁজেন তাহলে QCY HT15 (Buds ANC) সেরা পছন্দ হবে। তবে বাজেট যদি একটু কম হয় এবং ডিজাইন নিয়ে খুব বেশি সমসম্যা নেই তাহলে SoundPEATS T3 Pro নিতে পারেন। আর আপনার বাজেট যদি ১৫০০ টাকা হয় আর আপনি QCY এরই একটি ইয়ারবাডস নিতে চান তাহলে QCY Buds QT43 নিতে পারেন।