৩০ হাজার টাকায় সেরা ৫টি মোবাইল
বাংলাদেশের স্মার্টফোনের মার্কেটে ৩০ হাজার টাকার আশেপাশে অনেকগুলো স্মার্টফোন পাওয়া যায় না। এর মধ্যে আপনার জন্য কোনটা সেরা হবে, সেটি খূঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। আপনার সেই কষ্টকে লাঘব করতে ঢাকা মনিটর ২৪ খুঁজে বের করেছে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা পাঁচটি স্মার্টফোন। যেখানে রয়েছে গেমিং, ক্যামেরা এবং ব্যালেন্স পারফরম্যান্স দেওয়া ফোন।
iQOO Z10 Turbo
iQOO Z10 Turbo একটি পারফরম্যান্স কেন্দ্রিক মোবাইল। যারা গেমিং করতে চান কিংবা ভিডিও এডিটিং বা ভারী কাজ করতে চান তাদের জন্য এই ফোনটি ভালো পছন্দ হতে পারে। কারণ এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 8400 এর মতো শক্তিশালী প্রসেসর। এছাড়া ডিসপ্লে সেকশনেও থাকছে 6.78 ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে। যার রেজুলেশনও ভালো। ফলে মিডিয়া প্লেতেও ভালো পারফরম্যান্স পাবেন।
তবে আপনি যদি ক্যামেরাটাও ভালো চান, তাহলে iQOO Z10 Turbo স্মার্টফোনটি আপনার জন্য নয়। কারণ এই ফোনটিতে ক্যামেরা সেকশনে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। 50MP এর একটি মেইন সেন্সরের সঙ্গে 2MP এর একটি সেকেন্ডারি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে ৩০ হাজার টাকায় সেরা ৩ স্মার্টফোন
এর বাইরে ফোনটির ডিজাইন নিয়েও কিছুটা কমপ্লেইন করার জায়গা থাকছে। কারণ ফোনটির বডি প্লাসটিক দিয়ে তৈরি। সুতরাং স্ক্র্যাচ পড়া বা ব্যবহার করে প্রিমিয়াম ফিল পাওয়া যাবে না।
একনজরে ফোনটির স্পেসিফিকেশনগুলো
ডিসপ্লে: ফোনটিতে 6.78 inch এর AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে থাকছে যার রেজোলিউশন 1260×2800 পিক্সেল।
ক্যামেরা: ব্যাক ক্যামেরায় 50MP মেইন সেন্সরের সঙ্গে 2MP সেকেন্ডারি সেন্সর ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্রন্ট ক্যামেরায় 16MP সেন্সর দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসর (Chipset): এই ফোনটিতে MediaTek Dimensity 8400 এর মতো শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি।
RAM + Storage: ফোনটি 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি: এতে 7,620 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাকে চার্জ করার জন্য ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে।
অপারেটিং সিস্টেম: ফোনটি Android 15 অপারেটিং সিস্টেম রান করা হয়েছে। এতে UI হিসেবে OriginOS বা FuntouchOS ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
দাম: ফোনটির 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে ৩১-৩২ হাজার টাকার মধ্যে।
Redmi Turbo 4 pro
Redmi Turbo 4 pro এই স্মার্টফোনটিও পারফরসম্যান্স কেন্দ্রীক ফোন। যারা মূলত গেমিং, ভিডিও এডিটিং বা মাল্টিটাস্কিং করেন, তারা এই ফোনটি পছন্দ করতে পারেন। ফোনটিতে থাকা Qualcomm Snapdragon 8s Gen 4 এর মতো শক্তিশালী চিপসেট বা প্রসেসর আপনাকে দারুণ পারফরম্যান্স দিবে।
ফোনটির ডিসপ্লে সেকশনও যথেষ্ট ভালো। Redmi Turbo 4 pro এ 6.83 -ইঞ্চির AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। যেটি ফুলএইচডি প্লাস রেজুলেশন সাপোর্ট করে। ফলে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা মিডিয়া প্লেব্যাক—সব ক্ষেত্রেই স্মুথ ও ভিজ্যুয়ালি দারুণ এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে। এছাড়াও 120 Hz এর রিফ্রেশরেট ও HDR 10+ এর সাপোর্ট পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে ৩০ হাজারে সেরা দুটি মোবাইল
তবে আপনি যদি ভালো ক্যামেরা খুঁজে থাকেন, তাহলে এটি আপনাকে কিছুটা হতাশ করবে। ফোনটির মূল সেন্সর হিসেবে একটি 50 MP প্রাইমারি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে 8 MP এর একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা আছে। আর সেলফি ক্যামেরা হিসেবে আছে 20 MP এর একটি ক্যামেরা।
একনজরে ফোনটির স্পেসিফিকেশনগুলো
ডিসপ্লে: ফোনটিতে 6.83 inch এর AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে থাকছে যার রেজোলিউশন 1280×2772 পিক্সেল।
ক্যামেরা: ব্যাক ক্যামেরায় 50MP মেইন সেন্সরের সঙ্গে 8 MP এর একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্রন্ট ক্যামেরায় 20MP সেন্সর দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসর (Chipset): এই ফোনটিতে Qualcomm SM8735 Snapdragon 8s Gen 4 এর মতো শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি।
RAM + Storage: ফোনটি 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি: এতে 7,550 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাকে চার্জ করার জন্য ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে।
অপারেটিং সিস্টেম: ফোনটি Android 15 অপারেটিং সিস্টেম রান করা হয়েছে। এতে UI হিসেবে HyperOS 2 ব্যবহার করা হয়েছে।
দাম: ফোনটির 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে ৩১-৩২ হাজার টাকার মধ্যে।
Nothing Phone 3a
৩০ বা ৩২ হাজার টাকায় আপনি যদি ক্যামেরা কেন্দ্রীক একটি ফোন খুঁজেন, বিশেষ করে টেলিফটো লেন্স আপনার প্রয়োজন তাহলে Nothing Phone 3a আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। ফোনটিতে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। যেখানে মেইন ক্যামেরা হিসেবে থাকছে 50 MP এর একটি সেন্সর। এর সঙ্গে থাকছে 50 MP এর একটি টেলিফেটো লেন্স ও 8 MP এর আল্ট্রওয়াইড সেন্সর। সেলফি ক্যামেরা হিসেবে আছে 32 MP এর সেন্সর। ফলে দুর্দান্ত ক্যামেরা কোয়ালিটি পাওয়া যাবে।
ফোনটি পারফরম্যান্সেও যথেষ্ট ভালো। এতে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 7s Gen 3 চিপসেট। এই জায়গায় আগের দুটি ফোনের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে Nothing Phone 3a। তবে আপনি যদি অনেক বেশি গেম না খেলেন তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে ২০ হাজার টাকায় সেরা ৫ মোবাইল
Nothing Phone 3a এর ডিসপ্লে সেকশনও যথেষ্ট ভালো। 6.77 inches এর ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাতে 1B colors, 120Hz, HDR10+ এর মতো ফিচার রয়েছে। ডিসপ্লে রেজুলেশনও ভালো 1080 x 2412 pixels।
একনজরে ফোনটির স্পেসিফিকেশনগুলো
ডিসপ্লে: ফোনটিতে 6.77 inches এর AMOLED প্যানেল ডিসপ্লে থাকছে যার রেজোলিউশন 1080 x 2412 পিক্সেল।
ক্যামেরা: ব্যাক ক্যামেরায় 50MP মেইন সেন্সরের সঙ্গে 50MP এর একটি টেলিফটো লেন্স ও 8 MP এর একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্রন্ট ক্যামেরায় 32MP সেন্সর দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসর (Chipset): এই ফোনটিতে Qualcomm SM7635 Snapdragon 7s Gen 3 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি।
RAM + Storage: ফোনটি 8GB RAM ও 128GB স্টোরেজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি: এতে 5000 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাকে চার্জ করার জন্য 50W ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। যা ১৯ মিনিটে ৫০ আর ৫৬ মিনিটে ১০০ ফুল চার্জ করে দেবে।
অপারেটিং সিস্টেম: ফোনটি Android 15 অপারেটিং সিস্টেম রান করা হয়েছে। এতে UI হিসেবে Nothing OS 3.1 ব্যবহার করা হয়েছে।
দাম: ফোনটির 8GB RAM ও 128GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে ৩২-৩৩ হাজার টাকার মধ্যে।
Honor 200
যারা দৈনন্দিন কাজে ব্যালেন্সড পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্যামেরাটাও ভালো চান Honor 200 তাদের জন্য। কারণ এই ফোনটিতেও ব্যবহার করা হয়েছে টেলিফটো লেন্স।
ফোনটিতে 50 MP এর মেইন সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে 50 MP এর একটি টেলিফটো লেন্স ও 12 MP এর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সর রয়েছে। ফ্রন্টেও ব্যবহার করা হয়েছে 50 MP এর একটি সেন্সর।
Honor 200 এ চিপসেট বা প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 7 Gen 3 প্রসেসর। যেটি দিয়ে দৈনন্দিন কাজগুলো বেশ স্মুথভাবে করা যাবে। এর সঙ্গে টুকটাক গেমিংও করা যাবে। ফোনটিতে রয়েছে 6.7-ইঞ্চির OLED প্যানেল ডিসপ্লে। যেটিতে 120 Hz রিফ্রেশরেট রয়েছে। তবে HDR+ নয় শুধু HDR এর সাপোর্ট রয়েছে।
একনজরে ফোনটির স্পেসিফিকেশনগুলো
ডিসপ্লে: ফোনটিতে 6.7 inches এর OLED প্যানেল ডিসপ্লে থাকছে যার রেজোলিউশন 1200×2664 পিক্সেল।
ক্যামেরা: ব্যাক ক্যামেরায় 50MP মেইন সেন্সরের সঙ্গে 50MP এর একটি টেলিফটো লেন্স ও 12 MP এর একটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রন্ট ক্যামেরায়ও 50MP সেন্সর দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসর (Chipset): এই ফোনটিতে Qualcomm Snapdragon 7 Gen 3 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি।
RAM + Storage: ফোনটি 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি: এতে 5200 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাকে চার্জ করার জন্য 100W ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। যেটা মাত্র ১৫ মিনিটে ৫৭ শতাংশ চার্জ করে দেবে।
অপারেটিং সিস্টেম: ফোনটি Android 14 অপারেটিং সিস্টেম রান করা হয়েছে। এতে UI হিসেবে MagicOS 8 ব্যবহার করা হয়েছে।
দাম: ফোনটির 12 RAM ও 256GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে ৩২-৩৩ হাজার টাকার মধ্যে।
Motorola Edge 60 Fusion 5G
Motorola Edge 60 Fusion 5G একটি ব্যালান্সড পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক স্মার্টফোন। যারা টুকটাক গেমিং করেন, ক্যামেরাটাও একটু ভালো চান, ডিসপ্লেতেও নজর আছে এটি তাদের জন্য। এক কথায় যাদের সবকিছুই একটু একটু প্রয়োজন।
এই ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে MediaTek Dimensity 7300 (Global) / Mediatek Dimensity 7400 (India, Indonesia) প্রসেসর। যেটি সাধারণ কাজ, মাল্টিটাস্কিং বা টুকটাক গেমিংয়ে স্মুথ পারফরম্যান্স দিবে।
ক্যামেরা সেকশনে 50 MP এর মেইন ক্যামেরার সঙ্গে 13 MP এর একটি আল্ট্রওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ফ্রন্টে দেওয়া হয়েছে 32 MP এর একটি ক্যামেরা। ডিসপ্লে সেকশনে রয়েছে 6.67-ইঞ্চির pOLED ডিসপ্লে। যেটিতে 1B colors, 120Hz, HDR10+ ফিচার রয়েছে।
একনজরে ফোনটির স্পেসিফিকেশনগুলো
ডিসপ্লে: ফোনটিতে 6.67 inches এর P-OLED প্যানেল ডিসপ্লে থাকছে যার রেজোলিউশন 1220 x 2712 পিক্সেল।
ক্যামেরা: ব্যাক ক্যামেরায় 50MP মেইন সেন্সরের সঙ্গে 13 MP এর একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্রন্ট ক্যামেরায় 32MP সেন্সর দেওয়া হয়েছে।
প্রসেসর (Chipset): এই ফোনটিতে Mediatek Dimensity 7300 – (Global) / Mediatek Dimensity 7400 (India, Indonesia) প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যা 4nm প্রযুক্তিতে তৈরি।
RAM + Storage: ফোনটি 12GB RAM ও 256GB স্টোরেজে পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি: এতে 5500 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যেটাকে চার্জ করার জন্য 68W ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে।
অপারেটিং সিস্টেম: ফোনটি Android 15 অপারেটিং সিস্টেম রান করা হয়েছে। এতে UI হিসেবে Hello UI ব্যবহার করা হয়েছে।
দাম: ফোনটির 12 RAM ও 256GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে ৩২-৩৩ হাজার টাকার মধ্যে।