এক আলোর দিশারীর বিদায়ের ৪ বছর: স্মরণে শাহ্ আবদুল হান্নান
আজ ২ জুন, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, শিক্ষানুরাগী, সাবেক সফল আমলা এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম শাহ্ আবদুল হান্নান-এর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৩৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই কালজয়ী ব্যক্তিত্ব ২০২১ সালের আজকের এই দিনে ৮২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
তিনি ছিলেন একাধারে সততার মূর্ত প্রতীক এবং সমাজ সংস্কারক। দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) চেয়ারম্যান ও সচিবের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এদেশের উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও ব্যাংকিং খাতের ইসলামীকরণে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।
শিক্ষা ও সমাজ গঠনে তাঁর অনন্য অবদানসমূহ
উচ্চশিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর: আমাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠ মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ (IIUC) দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
চিন্তার আধুনিকায়ন ও মধ্যমপন্থা: জ্ঞানচর্চায় তিনি সবসময় ‘আল-ওয়াসাতিয়াহ’ বা মধ্যমপন্থা অনুসরণ করতেন। ড. হাশিম কামালী ও মুহাম্মদ আসাদের মতো বিশ্বখ্যাত স্কলারদের বই বাংলায় অনুবাদ করিয়ে আধুনিক শিক্ষিত প্রজন্মের কাছে ইসলামের সঠিক ও যুগোপযোগী ব্যাখ্যা পৌঁছে দিয়েছেন।
নারী অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা: ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর সঠিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রের অধিকার নিয়ে তিনি ছিলেন একজন অগ্রগামী ও স্পষ্টবাদী কণ্ঠস্বর।
গবেষণা ও থিংক ট্যাংক গঠন: বাংলাদেশে সুশৃঙ্খল গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট’ (BIIT) এবং ‘ইসলামিক ল রিসার্চ কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।
পেশাগত জীবনে শীর্ষ আমলা হলেও চিন্তায় ও কর্মে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও মানুষ গড়ার কারিগর। তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান ব্রত।
আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এই মহান কর্মবীরকে। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন মরহুমের সকল দ্বীনি ও সামাজিক অবদানকে কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমীন।
লেখক: আব্দুল্লাহ আল রাফি
শিক্ষার্থী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি