নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব ই-কার হস্তান্তর
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুটি ইলেকট্রিক কার (ই-কার) হস্তান্তর করেছে গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শেডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে ই-কার দুটির চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন ফাউন্ডেশনটির প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান, পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান, গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদুল হক, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবাবিল গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব ই-কার সংযোজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। খুব শিগগিরই ই-কারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এর চলাচল, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ই-কার সংযোজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। অল্প কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া চালু করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন ও মাননীয় উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে এই ই-কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে। ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ই-কার সংযোজন করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ই-কারগুলো থেকে কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ হয় না। বর্তমানে এগুলো বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে সৌরশক্তির (সোলার প্যানেল) মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-কার চালু হলে ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনের প্রচেষ্টায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
