জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘সিন্ডিকেটে’ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত সদস্য হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল ও জাকসু নেতৃবৃন্দের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ। তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গবেষণার অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করেন বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতি সূত্রে জানা যায়, ড. নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পরিবেশগত শাসন’ বিষয়ে মাস্টার্স এবং মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘যোগাযোগ ও উদ্ভাবন’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদান পেয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ড. নাহরিন ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং তাঁর বাবা এন আই খান বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহানারা ইমাম হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের প্রতিবাদে যে তিনজন শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন, ড. নাহরিন তাঁদের একজন। তিনি কলাম লেখক ও টেলিভিশন আলোচক হিসেবেও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত দিয়ে আসছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ড. নাহরিন ইসলাম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের সমালোচনা ও কটূক্তির মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি তিনি মামলা ও হুমকিমূলক চিঠিরও সম্মুখীন হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুশাসন নিশ্চিত করতে অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান বিবৃতিদাতারা।
বিবৃতিতে জাকসু ও হল সংসদের সাবেক ভিপি-জিএস এবং সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ ৩১ জনের বেশি নেতা স্বাক্ষর করেছেন বলে জানানো হয়েছে।