জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলায় আড্ডা শেষে এক ছাত্রদল নেতাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
গত ৯ অক্টোবর ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল বলেছেন, ওই শিক্ষার্থী পড়ে যাননি বা কোনো আঘাতও পাননি।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বটতলায় সজলের দোকানে কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা পরস্পরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও মশকরা করছিলেন। আড্ডা শেষে দোকান থেকে বের হয়ে হলের দিকে যাওয়ার সময় পেছন থেকে শরিফুল তাঁর ডান কোমরে জোরে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান, চশমা খুলে পড়ে যায় এবং ডান কোমর ও দুই হাতের কনুইয়ে ব্যথা পান। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, শরিফুলের সঙ্গে তাঁর আগে থেকে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না। আড্ডার সময় তাঁরা পরস্পরকে নিয়ে নিয়মিত হাসি-ঠাট্টা করতেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি ‘আমি যা করছি ঠিক করছি’ বলে মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও দপ্তর সম্পাদককে মৌখিকভাবে জানান। পরে শাখার দপ্তর সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তরেও অভিযোগ জমা দেন এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে তা পাঠান বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনার বিবরণ সঠিক নয়। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং তিনি পড়ে যাননি, তাঁর চশমাও পড়ে যায়নি। শরিফুল বলেন, “সে কোনো আঘাত পায়নি। জখম হওয়ার মতো কোনো আঘাত করা হয়নি।”
শরিফুল আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থী নারী ও পুরুষের চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন এবং এসব বিষয়ে অন্যদের বিরক্তির কারণ হন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের আচরণের জন্য তাঁকে আগেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তিনি এই কথোপকথনে তুলে ধরেননি।
শরিফুল জানান, তিনি লিখিত অভিযোগপত্রটি দেখেননি। সেটি দেখে পরে এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের পরিচয় তাঁদের গোপনীয়তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।