শিশু নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে গিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষার মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে অভিযুক্তকে রক্ষার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বদলে অভিযোগকারীর কণ্ঠ রোধের চেষ্টা কেন করা হয়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি মনে করেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগের দায় পুরো মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো যেমন সমীচীন নয়, তেমনি মাদ্রাসাশিক্ষক পরিচয়ের কারণে অভিযুক্ত কাউকে রক্ষা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়ন কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অভিযোগকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে না দেখে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে একটি বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি শিশুদের সুরক্ষা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।